রাজধানীর পর এবার দেশের বিভিন্নস্থানে শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার খবর জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ রোববার (১৫ মার্চ) সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার শিলাবৃষ্টিসহ ঝুমবৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টি জনজীবনে এক পশলা প্রশান্তি বয়ে আনলে শিলাবৃষ্টির কারণে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রোববার সকালে শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর ,দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে ১০ লাখ কৃষক দুই লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। আর মাসখানেক পরই কষ্টের ফলানো এই ধান গোলায় তুলবেন কৃষকেরা। সুনামগঞ্জের জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে ধানের এখনও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফসলের ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী সংবাদদাতা।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, শিলাবৃষ্টি স্থায়ী ছিল প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিট ছিল। ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কৃষকরা।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়তে শুরু করে। শিলাবৃষ্টি দীর্ঘ হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছি।
রৌমারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রৌমারীতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের কারণে বোরধান দুই হেক্টর, ভুট্টা ৩০৫ হেক্টর, গম ২০ হেক্টর, চিনা চার হেক্টর, মরিচ এক হেক্টর, চিনা বাদাম এক হেক্টর, সূর্যমূখী চার হেক্টর, কালোজিরা ২ হেক্টরসহ প্রায় ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ফসলের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শিলাবৃষ্টির তীব্রতা খুব বেশি ছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাছাড়া গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঝুমবৃষ্টির পাশাপাশি অনেক জায়গায় শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান ও ভাটারা, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকায় শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.