কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মালিকানাধীন মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কুনা) জানিয়েছে, এই আকস্মিক হামলার ফলে শোধনাগারের বেশ কয়েকটি ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে শোধনাগারটির বিশাল একটি অংশের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার ভোরে ড্রোনগুলো শোধনাগারের সুনির্দিষ্ট কিছু ইউনিট লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে একটি ইউনিটে বড় ধরনের আগুনের সূত্রপাত হলে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করে শোধনাগারের আংশিক কার্যক্রম শাটডাউন বা বন্ধ রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে তাদের বিশেষায়িত দলগুলো বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বড় ধরনের কোনো বিস্ফোরণ বা জানমালের ক্ষতি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও জ্বালানি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশের প্রধান শোধনাগারে এই হামলা বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মিনা আল-আহমাদি কুয়েতের অন্যতম বৃহত্তম ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার হওয়ায় এর উৎপাদন ব্যাহত হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার ধরন ও উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে এই ঘটনার পর দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও তেলক্ষেত্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সি আরও জানিয়েছে যে, শোধনাগার কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করা হবে না। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের মাধ্যমে হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ক্রমাগত হামলার যে ধারা দেখা যাচ্ছে, এই ড্রোন আক্রমণটি তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ল।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.