কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ বাসযাত্রী নিহত ও অন্তত ১৫–২০ জন আহতের ঘটনায় দুই গেটম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লাকসাম জিআরপি থানায় আহত যাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নিজেকে নিহত সোহেল রানার খালা বলে উল্লেখ করেছেন। সোহেল রানা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহতদের একজন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. হেলাল (৪১)-কে, যিনি পদুয়ার বাজার রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপর আসামি একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে মেহেদী হাসান (৩৩), যিনি ওই ক্রসিংয়ের ওয়েম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত সোহেল রানা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন এবং ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে যাচ্ছিলেন। ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে করে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ লাকসামের উদ্দেশে রওনা দেন। ভোররাত ৩টার দিকে বাসটি পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে গিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার জানান, দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় রেলগেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদের পরদিন রোববার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.