ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এখন সরাসরি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের আলোচনা চলছে। জেডি ভ্যান্স, মার্কো রুবিও এবং আরও কয়েকজন যোগ্য ব্যক্তি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন।’ গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজের অনীহার কথা জানালেও কেন এখন অবস্থান পরিবর্তন করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং তারা বাস্তবসম্মত আচরণ করছে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিপক্ষ শক্তি এখন চুক্তি করতে মরিয়া। তাদের নৌবাহিনী এখন প্রায় অস্তিত্বহীন, বিমানবাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এটাই তাদের বড় সমস্যা।’
চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধান শর্ত একটাই—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যেই এই শর্তে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। আর আমি গতকালও বলেছি, আমাদের এক, দুই এবং তিন শর্ত হলো—তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা তাতে রাজি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার প্রাণহানি ঘটেছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তবে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই তৎপরতা যুদ্ধের একটি ‘অফ-র্যাম্প’ বা প্রস্থানের পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.