সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার নোটিশটি বৈধ হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ৬২ নম্বর বিধিতে এই নোটিশ গ্রহণ করা হলে তা সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫)-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান’ প্রসঙ্গে নোটিশটি উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে আইনমন্ত্রী এক কথায় সম্মতি দিয়েছেন। আলোচনা নির্ধারণ, সময় নির্ধারণ, সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ—সব কিছুই উপস্থাপন করা হয়েছে, এরপর বিতর্ক হবে। তবে আমি বিধি অনুযায়ী কথা বলতে চাই।
তিনি বলেন, এর আগে যখন বিরোধী দলের নেতা একই বিষয় উত্থাপন করেছিলেন, তখন আমি তাকে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।
কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিধি অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনা যায়—যা রুল ৬২-এ উল্লেখ আছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে হলে বিধি ৬৮ প্রযোজ্য, যেখানে আধা ঘণ্টা আলোচনা করা যায়। আর রুল ৬২ অনুযায়ী গ্রহণ করলে দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া যায় এবং তিন দিনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে, যদি ২৫ জন সদস্য সমর্থন করেন এবং সরকারি দলের কেউ আপত্তি না তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপত্তি তুলছি না, আবার অনাপত্তিও জানাচ্ছি না। কারণ, এটি স্পিকারের এখতিয়ার। তবে বর্তমান নোটিশটি বৈধ নয়। আগে বৈধভাবে নোটিশ দিতে হবে, তারপর আলোচনা হতে পারে।’
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হৈচৈ করে আপত্তি জানান। পরে ডেপুটি স্পিকার তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার সুরক্ষা চাই। বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন, কিন্তু আমাকে কথা বলার সুযোগও দিন। না হলে আমি বসে যাব—এটাই বিধি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি রুল ৬২ অনুযায়ী এই নোটিশ গ্রহণ করেন, তাহলে তা সংশোধিত আকারে নিতে হবে। অথবা বিরোধী দলীয় নেতাকে নতুন করে সংশোধিত নোটিশ দিতে বলতে পারেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেন, বর্তমান নোটিশটি মূলত রুল ৬৮-এর আওতায় পড়ে, যেখানে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যায়।
আরও একটি পয়েন্ট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিধি ৬৩ অনুযায়ী এমন কোনো প্রস্তাব আনা যায় না, যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব। সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই করতে হয়, তাই এটি মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে আনা যায় না।
তিনি প্রস্তাব দেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সদস্যরা অংশ নেবেন। ওই কমিটি বিশেষজ্ঞ, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। তবে এর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান এখনো পরিবর্তিত হয়নি। এটি ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের একটি প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই সংবিধান সংশোধন হোক সর্বসম্মতভাবে, শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়। এমন একটি দলিল তৈরি করতে চাই, যা দীর্ঘদিন দেশের প্রয়োজন মেটাবে এবং জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করবে।’
শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য। তাই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.