হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোলচত্বরে বাবুস সালাম মসজিদ মার্কেটে চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা হামলা করে ৮টি দোকান দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এসময় দুর্বৃত্তরা ওই মার্কেটের ২য় তলা ও তৃতীয় তলার সজল ইন্টারন্যাশনাল নামক আবাসিক হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও একাধিক মোবাইল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
এদিকে ঘটনার পর চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ওই হোটেলের ম্যানেজার মনির হোসেন মনির, তার শ্বশুর ও হোটেল কর্মচারীকে পুলিশ উল্টো থানায় হাজতে আটকে রাখে বলে ভুক্ত ভোগীদের অভিযোগ ।
পুলিশ দখলবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে রহস্যজনকভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরের দিকে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার আগে মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করছে বিমানবন্দর থানার শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ঈমান আলী ঈমান । দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঈমানের নেতৃত্বে মোহাম্মদ প্রিন্স, মোবারক ও আরিফসহ ১৫/২০ জনের একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ওই মসজিদ মার্কেটের ব্যাপক হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ৮টি দোকান দখল করে নেয়। এবং সজল ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলা ও তৃতীয় তলায় ব্যাপক ভাঙচুর করে অর্থ ও মোবাইল সেট এবং দামি জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা।
বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে মার্কেটে আসা বিদেশগামী স্থানীয় লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।
মনির আরও জানান, সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনার পর গোলচত্বরে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্দুল গফুরকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানালে তিনি বলেন, থানার ওসি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন । আমি বাড়িতে আছি। পরে আমি আমার শ্বশুর ও দোকান কর্মচারী মিলে বিমানবন্দর থানায় যাই।
এসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোবারক হোসেন আমাদের অভিযোগটি আমলে নেননি। উল্টো আমাদের তিনজনকেই থানা হাজত আটকে রাখেন। তিনিও সন্ত্রাসীদের পক্ষে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করেন। এই ব্যাপারে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে ।
সজল ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের মালিক মো. নুরুল ইসলাম এবিষয়ে বলেন, আমার ওই মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাযর আবাসিক হোটেল দুটিতে সন্ত্রাসী ঈমানসহ ১৫/২০জন মিলে ব্যাপক ভাঙচুর করে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায় । তারা আমার অনুপস্থিতিতে মার্কেটের দোকান দখল করতে গেলে তখন মাদ্রাসা ছাত্ররা ওই সন্ত্রাসীদেরকে ধাওয়া করে ।
এক পর্যায়ে ওই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গিয়ে থানায় আশ্রয় নেয়। নুরুল ইসলাম আরও জানান, ওই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করার কথা জানান।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.