গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানীর তুলনায় দেশের মফস্বল ও গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের হাহাকার সবচেয়ে বেশি। কোথাও কোথাও দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে খবর পাওয়া গেছে। জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে সামনের দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিবিসি বাংলার তথ্যমতে, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। মেহেরপুরের আমঝুপি এলাকার ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান লিটন জানান, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ৪-৫ বার বিদ্যুৎ যায়। দিন-রাতের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গড়ে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে। লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম এবং মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলে এই চিত্র সবচেয়ে বেশি প্রকট। তবে পৌরসভা বা শহর এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক কম, দিনে ২-৩ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ বা পিজিসিবি এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গত কয়েক দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সারা দেশে লোডশেডিং ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
পিডিবির তথ্য বলছে, এপ্রিলের শুরু থেকে দেশে দিনে ও রাতে গড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৮০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে এই সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৬৮৮ মেগাওয়াট।
পরদিন বুধবার বিকেল তিনটায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট। পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৪৩ মেগাওয়াট। এ মাসে বুধবারই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানান, "জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কয়লা ও তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) সমস্যা হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।"
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, "বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। বকেয়া পরিশোধের সমস্যার কারণেও জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়ছে, যার ফলশ্রুতিতে এই লোডশেডিং।"
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার অফিসের সময় কমানো এবং শপিং মল দ্রুত বন্ধ করার মতো উদ্যোগ নিলেও গরমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সামনে তা খুব একটা কাজে আসছে না। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কলকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। তবে গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.