ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে যাচ্ছে বুধবার (২২ এপ্রিল)। এর মধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ৬০ শতাংশের বেশি অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ১০০টিরও বেশি লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো গুহা ও বাংকারে লুকানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ধীরে ধীরে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
এছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিপো ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারের কাজও চলছে। কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়া শেষ হলে ইরান তাদের আগের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে পারে।
যদিও অস্ত্র তৈরির অবকাঠামো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মতো সক্ষমতা ইরানের এখনও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রতিরোধ কৌশল এখন ভৌগোলিক সুবিধা ও অসম সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে ইরান বড় ধরনের কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও এই অবরোধে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমুদ্রপথনির্ভর, যার দৈনিক মূল্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এই বাণিজ্যের বড় অংশই স্থবির হয়ে পড়েছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.