ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (৯ মে) ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরই আইআরজিসি এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, ইরানের জাহাজ বা বাণিজ্যিক বহরে যেকোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজে শক্ত প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা কূটনৈতিক সমাধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় তাদের নৌবহরকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছিল।
ইরানি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, এর জবাবে নৌবাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই কৌশলগত নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে তেহরান মনে করছে, এটি তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল।
চলমান পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠকেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.