জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর -২, উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম ভাঙিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি , বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে সত্তার মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সলিম উদ্দিন । তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে একের পর এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের কাজের অজুহাত দেখিয়ে অবৈধভাবে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে সুকৌশলে প্রতারণা মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন হারুন অর রশিদ ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর-০২, ঢাকায় কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, প্লট ও ফ্ল্যাট জালিয়াতি, গ্রাহক হয়রানি এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী মো. সলিম উদ্দিন দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হারুন অর রশিদ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সেইসব অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী এবং কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় । উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ মিরপুর পল্লবীর বাসা-০৮, রোড-১২, লেন-০৭, ব্লক-সি, সেকশন-১১ , এই বাসাই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এবং তিনি ফেনী জেলার সদর এলাকায় আব্দুর গোফরান তহসিলদার বাড়ী গ্রামের মো. আব্দুর রউফ এর ছেলে তিনি। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২৮১২০১০ ৪৫৮, টিআইএন নং-৩১৮৯৩৩৩৯৩৫১৯, কর সার্কেল-৮৮, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা।
লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, মো. হারুন অর রশিদ বিভিন্ন ডেভেলাপার কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি জমি দখল, প্লট বরাদ্দে অনিয়ম এবং ফ্ল্যাট বরাদ্দে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া প্লট বিক্রির নামে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফেনীতে তার নিজ এলাকায় দুটি বিলাসবহুল বাড়ি, চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি হোটেল এবং কক্সবাজারের সি-বিচ এলাকায় আরেকটি হোটেলের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি একের পর এক অপকর্ম -বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন । বর্তমানে তিনি বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে হলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। যার উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী। এই ব্যাপারে উপ -সহকারী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়গুলো সঠিক নয়। তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন। পর্ব -১ ।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.