বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা এর রত্নপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত শাহী বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি সরকারি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার ইজারা (লিজ) ছাড়াই ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে পুকুরটি থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ আহরণ ও বিক্রি করা হলেও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না কোনো রাজস্ব। অভিযোগের তীর রত্নপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদার, মসজিদ কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমানের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল রাতভর মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, রত্নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া ও বাজার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শিকদার পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। পরে স্থানীয় সাইফুল হাওলাদারের নছিমন গাড়িতে করে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মাহিলাড়া বাজারে মাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় দৈনিক দৈনিক ইনকিলাব সহ বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহী বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও বেলুহার নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান মুঠোফোনে দাবি করেন, পুকুরটি সরকারি নয়, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি।
তিনি বলেন,“এই পুকুরে মাছ ছেড়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদার। আমাদের জানামতে এটি সরকারি পুকুর নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ কমিটি পুকুরটি ভোগদখল করে আসছে। আমরা কখনো কোনো লিজ নিইনি বা খাজনাও দিইনি, কারণ এটি মসজিদের নিজস্ব সম্পদ হিসেবেই পরিচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এ বিষয়ে মোস্তফা চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনিও আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে পুকুরটি সরকারি নয়। যদি এটি সরকারি হতো, তাহলে সরকার অবশ্যই লিখিতভাবে নোটিশ দিত।”
এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মোস্তফা সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গভীর রাতে পুকুরের মাছ ধরার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লিখন বণিক বলেন, “রত্নপুর ইউনিয়নের পুকুরটি নিয়ে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে ভোগদখল বা রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.