দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন প্রকৌশলী সংগঠনের নেতারা। এ দাবির অংশ হিসেবে বিশিষ্ট প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর নেতারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে প্রযুক্তি, টেকসই অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নগর উন্নয়ন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এসব খাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ প্রকৌশলীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, দেশের অধিকাংশ বড় উন্নয়ন প্রকল্প প্রকৌশলনির্ভর হলেও নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রকৌশলীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, ব্যয় সাশ্রয়, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
এ্যাব নেতারা আরও বলেন, প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা এবং পেশাজীবীদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং জাতীয় উন্নয়ন বিষয়ে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি মন্ত্রিসভায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা মনে করেন।
তাদের মতে, বর্তমানে দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে প্রকৌশলীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় দুটিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বাস্তবমুখী, টেকসই ও জনবান্ধব হবে।
প্রকৌশলী সমাজের নেতাদের ভাষ্য, শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা শুধু একজন ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি হবে না; বরং দেশের লাখো প্রকৌশলীর প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। একই সঙ্গে এটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও শক্তিশালী করবে।
তারা আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ থেকে স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। এ সময়ে প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, আসন্ন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা সম্প্রসারণে নতুন কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর দপ্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকৌশলী সমাজের অনেক সদস্য শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.