বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। তিনি বলেন, এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা পদ্মা ব্যারাজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়।
তিনি আরও বলেন, তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন আমরা কিছু চাই না। আমি সংসদের ভেতরেও একই কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন। আমাদের অবস্থান এই ব্যাপারে একদম ক্লিয়ার।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, আমরা একটা নির্বাচনমুখী দল। আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় এই দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই। কাজেই আমরা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এবারও আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব স্তরে অংশগ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে দুটি উপ-নির্বাচন হয়েছে। একটা শেরপুরে, আরেকটা বগুড়ায়। আপনারা সেখানকার চিত্র, কাণ্ড-কারখানা সবই দেখেছেন। আমরা এই ব্যাপারে শঙ্কিত যে, আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না। তবে আমরা জনগণকে অনুরোধ করব, জনগণ নিজের অধিকারের পক্ষে আরেকবার যেন সজাগ হয়, সোচ্চার হয়। একটা জিনিস মনে রাখবেন সব রোগের ওষুধ হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেট। জনগণ জাগলে সব ঠিক হয়ে যায়।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। সরকার সেই গণভোটের রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটের রায়কে বাদ দেয়া বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেয়া হবে না। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ ও সংসদের বাহিরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় একদিন বাস্তবায়ন হবে।
আমির শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে আগ্রাহ্য করার পাশাপাশি দেশের গভর্ণর পরির্বতন করে বিতর্কিত মানুষকে আমানতের জায়গায় বসিয়েছে। ৪২ জেলায় প্রশাসক বসিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন কেন দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। এটি জনগণের সাথে এক ধরনের তামাশা করা হয়েছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.