দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সীমিত সংঘর্ষ চলছেই। নিহত কর্মকর্তা হলেন মাওজ ইসরায়েল রেকানাতি। তার বয়স ২৪ বছর। তিনি গোলানি ব্রিগেডের ১২তম ব্যাটালিয়নের একটি প্লাটুনের কমান্ডার ছিলেন। তার বাড়ি ইতামারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এক মাস পরই বাগদত্তা রানির সঙ্গে রেকানাতির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমরা তার বাগদত্তা ও পরিবারের সদস্যদের পাশে আছি।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে নিহত সপ্তম ইসরায়েলি সেনা সদস্য তিনি। আর ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে এক বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন।
এদিকে শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন থাকা এলাকাগুলোর আকাশে উড়তে থাকা হিজবুল্লাহর কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোনের কারণে পশ্চিম গালিলির সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় সতর্কসংকেত বেজে ওঠে।
এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রকেট ও মর্টার ছোড়ে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সেগুলো সেনাদের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানলেও কেউ হতাহত হয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী শনিবার সন্ধ্যায় জানায়, সপ্তাহান্তে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে নজরদারি কেন্দ্র, অস্ত্রগুদাম ও হামলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অবকাঠামো ছিল।
টাইর অঞ্চলসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার দুই ডজনের বেশি গ্রামে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের এলাকায় চালানো হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, নতুন করে বহু বাসিন্দা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদা ও রাজধানী বৈরুতের দিকে সরে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এসব হামলার আগে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়। কয়েক দশকের মধ্যে গত মাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসে দুই দেশ। পরে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, উভয় পক্ষ ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ এ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার গোষ্ঠীটি অভিযোগ করে, লেবানন সরকার ‘শত্রুপক্ষকে বিনা মূল্যে একের পর এক ছাড় দিচ্ছে’।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শনিবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি সব পক্ষকে সংঘর্ষ বন্ধের শর্ত পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানান।
এক মাস ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হিজবুল্লাহ সদস্য ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকাতে তারা সেখানে গভীর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন ও রকেট হামলাও অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে বৈরুত ও সীমান্ত থেকে দূরের অন্যান্য এলাকায় যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বজায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এরপরই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়।
লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশটি ইসরায়েলের হামলা বন্ধ ও পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভিযোগ, বৈরুত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা চায়, গোষ্ঠীটি অস্ত্র সমর্পণ করুক। তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের অস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.