১৮ বছরের জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। ২০১৯ সালে ১২ বছর বয়সে বাবা কামাল হোসেনকে হারিয়েছে। ছয় বছরের ব্যবধানে এখন মা ও তিন বোনকে হারালো। বাবাকে হারানোর পর স্থানীয় লোকজন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় চলতো সংসার এবং ভাইবোনদের লেখাপড়া।
লেখাপড়ার পাশাপাশি সেও সংসারের হাল ধরে। তিন বোনসহ পাঁচজনের সংসারের ভার কাঁধে তুলে নেয় সে। রায়পুর শহরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ নেয়। কোনোভাবে চলতো তাদের সংসার।
সিফাতের পাঁচজনের পরিবারের চারজনেই এখন না ফেরার দেশে। বাবা-মা ও বোনদের হারিয়ে পৃথিবীতে আপন বলতে আর যেন কেউ রইলো না তার। একা রয়ে গেল সে। চার লাশের ভার এখন তার কাঁধে। ছোট্ট সিফাত এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ছয় বছর আগে একটি দুর্ঘটনা তার বাবা কামাল হোসেনকে কেঁড়ে নেয়। এবার একজন ঘাতকই নিয়ে গেছে তার পরিবারের চার সদস্যকে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে থাকা একটি ভাড়া বাসায় তার মা শাহিনুর আক্তার (৩৮), বড় বোন সায়মা আক্তার (২০), মেঝো বোন নাফিসা আক্তার ইকরা (১৬) ও ছোট বোন সিফা আক্তারকে (৯) খুন করে ঘাতক।
পরে স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনিতে মারা যায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার (২৮)। তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল অন্তর। তবে ঘটনাটি কেন ঘটেছে, সে বিষয়টি এখনো আজানা রয়ে গেছে। সন্দেহভাজন ঘাতকের মৃত্যু হওয়ায় পুলিশ এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। আর এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি সিফাতও।
ঘটনার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি সিফাত। তবে সে জানিয়েছে, ঘটনার আগেই সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে।
সিফাতের বড় বোন সায়মা আক্তার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০২২-২০২৩
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.