রংপুরের পীরগাছায় পরিবারের আপত্তি থাকার পরও ভালোবেসে বিয়ে করার জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে বাবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নুসরাত জাহান নুপুরের (১৮) মৃত্যু হত্যাজনিত কি না, তা নিয়ে চার মাস ধরে তদন্ত চলে।সম্প্রতি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যু হত্যাজনিত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে নিহতের ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিশাকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় নিহতের মা ও ফুফুসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের সতন্তরা গ্রামে বাবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে নুপুরকে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে খুনিরা মরদেহটি একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। একইসঙ্গে স্বামী আহাদকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশ নুপুরের ঝুলানো মরদেহ ও গুরুত্বর আহত স্বামী আহাদকে উদ্ধার করে।ঘটনার পর নিহতের পরিবার মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে। তবে নিহতের স্বামী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুপুর এবং একই ইউনিয়ের পাঠক শিকড় গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আহাদ হোসেন প্রায় আট মাস আগে পারিবারিক আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নুপুরের পরিবার তাকে স্বামীর সঙ্গে সংসার না করতে চাপ দিয়ে আসছিল। বিভিন্নভাবে নুপুরের স্বামীকে তারা হুমকিও দিতেন।
নিহতের স্বামী আহাদ হোসেন জানান, ঘটনার দিন তার শাশুড়ি ফোন করে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে নুপুরকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে বলেন। নুপুর যাওয়ার দুই দিন পর তাকেও ডাকা হয়। সেখানে গেলে তাদের দুজনকে আলাদা করে মারধর করা হয় এবং জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এর পরদিন সকালে নুপুরের মৃত্যুর খবর পান তিনি। ওইদিন ঘটনার সময় নুপুরের বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও ফুফুসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী আহাদ হোসেন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় নুপুরের মা মিতু বেগম (৫০), ফুফু ফেরদৌসি বেগম (৪৫), ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫), ভাবি দিলরুবা আক্তার দিশা (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার কিছুদিন পর নুপুরের বাবা নুরুন্নবী মিয়া মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকায় রাখা হয়নি।
পীরগাছা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.