সাভার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর হিসাবরক্ষক কাজী আসাদুল হায়দারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই দশক ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থেকে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি,ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্মে মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা গেছে, এখনো ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে আসছেন কাজী আসাদুল। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে দিয়ে সাভার সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিটিং মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর ও জ্বালাপোড়াও করানো হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য এবং নানা ধরনের বিপদে ফেলানোর জন্য কাজী আসাদুলের নেতৃত্বে এইসব ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে কর্মস্থলের এলাকাবাসীর অভিযোগ। এক কথায় বলা চলে আ'লীগের দোসর আসাদুল ।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, একই জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত চাকরির সুবাদে সাভারের বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে অঢেল সম্পদ ক্রয় করেছেন কাজী আসাদুল । সাভারে তার নামে এবং স্ত্রীর নামে তিনটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন বলে সূত্র জানায়। এছাড়াও রাজধানীতে দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। তার নিজ গ্রামে এলাকায় নামে বেনামে অনেক জমি ক্রয় করেন এবং আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, নামসর্বস্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল এহসান থেকে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংগ্রহ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন কাজী আসাদুল। পরবর্তীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি সাভার দুর্নীতি প্রতিরোধ নাগরিক কমিটির নজরে এলে কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ চান মিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মান নিয়ন্ত্রণ) মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে। তদন্ত শেষে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কাজী আসাদুলকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবারও সাভার উপজেলায় ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুনরায় একই কর্মস্থলে যোগদানের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদার পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের বিল ছাড়, ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধ, ফাইল অনুমোদন এবং হিসাব সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অযৌক্তিক হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা দাবি করা হতো। অনুগত না হলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা এবং বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্ব ঘটানোরও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন কাজী আসাদুল। সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে ৭.৫ শতক জমির ওপর দুটি প্লট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩৮.৫০ শতক জমি, নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট এবং এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে প্রায় ১,৯৯০ বর্গফুটের একটি মূল্যবান ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা থাকার বিষয়টিও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সহকারী হিসাবরক্ষক থাকাকালীনও তিনি অফিসে এমন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে, একের পর এক হিসাবরক্ষককে বদলি হতে বাধ্য হতে হয়। ভয়ভীতি, প্রভাব এবং স্থানীয় সিন্ডিকেট ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পদোন্নতি, পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বহাল থাকতে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এ বিষয়ে কাজী আসাদুল হায়দারের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে স্থানীয় ঠিকাদার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলজিইডিতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
অভিযোগে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হিসাবরক্ষক কাজী আসাদুল হায়দারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করে সাংবাদিকের নাম শুনলেই মোবাইলে কলটি কেটে দেন । এছাড়ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তারা কোনো কল রিসিভ করেননি। তাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পর্ব -১
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.