পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি নেমে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি নেমে বাজিমাত করেছেন এই এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণ ও বল দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে একাধিবার আক্রমণ করে গোলের দেখা পাচ্ছিলো না স্প্যানিশরা। অবশেষে ম্যাচের ৩০ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্পেন।
দারুণ এক আক্রমণে প্রথম দানি ওলমোর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি শটে বল জালে জড়ান ফাবিয়ান রুইজ। এরপর ৩৬ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি–কিক পায় স্পেন। কিন্তু ইয়ামালের জোরাল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। এরপর ৪১ মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। টিমোথি কাস্তানিয়ে দারুণ এক ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে জড়ান চার্লস ডি কেটেলারা।
ম্যাচে দাপট দেখিয়ে খেলেছে স্পেনই। কিন্তু জয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ সময় পর্যন্ত। ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ছিল ১-১ সমতা। শেষ মুহূর্তের গোলে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে স্পেন।
লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। এতে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় হয়ে গেছে রোমেলু লুকাকুদের।
ম্যাচের আধা ঘণ্টা হতেই এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। তবে সেই গোল শোধ করতে বেশি সময় নেয়নি বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ সমতায় ছিল দুই দল।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট স্পেন। তবে আক্রমণগুলো তেমন জমছিল না। অবশেষে ম্যাচের আধ ঘণ্টা হতেই প্রথম গোল পায় স্পেন।
পোরো ডান দিক দিয়ে ইয়ামালের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলেন। এতে ডোকুকে একা ফেলে দিয়ে ফুল-ব্যাকটি প্রথম ছোঁয়াতেই বক্সে নিচু একটি ক্রস পাঠান। সেই বল থেকে দানি ওলমো শট নিলে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া দারুণ এক সেভ করেন। তবে রিবাউন্ডে সবার আগে পৌঁছে ফ্যাবিয়ান রুইজ খুব কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন (১-০)।
চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম না করা স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হলো বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার এই গোলের পর ম্যাচে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কোর্তোয়ার পরিবর্তে স্পেনের আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে গোলপোস্টের নিচে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর সৃষ্টি হওয়া জটলা থেকে বল পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। বল পাওয়া মাত্রই কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের একদম মাঝখান দিয়ে জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি। এরপর ম্যাচে আর কোনো গোল আসেনি। ফলে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন স্পেন।
এই জয়ে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের গেরোও কেটেছে। শিরোপা ঘরে তোলার পরের তিন আসরে শক্তিশালী দল নিয়ে বিশ্বকাপে পা রেখেছে স্পেন। কিন্তু অজানা অভিশাপে ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হয়েছে। রাশিয়া ও কাতারে লা রোজাদের যাত্রা থেমেছে শেষ ষোলোয়। এবার শেষ চারে পা রাখল লামিন ইয়ামাল-পেদ্রিদের স্পেন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.