আমেরিকার যুদ্ধ মূলত এখন হরমুজকে ঘিরেই। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল আরোপ করতে পারে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নৌপথে একতরফাভাবে মাশুল আরোপের সুযোগ নেই।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা তিনি নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।
অন্তর্বর্তী সমঝোতা
গত ১২ জুন যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে বাস্তবে উভয় পক্ষই একাধিকবার এই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
এখন প্রণালি খোলা না বন্ধ?
গত ১২ জুলাই আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি পুরোপুরি চালু হবে না।
এর একদিন পর ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও খোলা থাকবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঐতিহাসিকভাবে ইরান পালন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
জাহাজ চলাচল শিল্পে বড় ধাক্কা
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত চার মাসে হরমুজ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
গত মে মাসে উপসাগরে প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়েন। অনেকের কাছেই পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।
সংঘাতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের নাবিক নিহত হয়েছেন।
বিকল্প বাণিজ্যপথের খোঁজ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর উদ্যোগ নেয়।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ফুজাইরাহ ও খোর ফাক্কান বন্দরকে কেন্দ্র করে বিকল্প বাণিজ্য করিডোর সক্রিয় করেছে। পাশাপাশি জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পরিবহনের জন্য আকাশপথের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকায় ফুজাইরাহ ও খোর ফাক্কান বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বর্তমানে অনেকটাই বেড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব বন্দরে লজিস্টিকস, শিল্প ও রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়নে শত শত কোটি দিরহাম বিনিয়োগ এবং নতুন চুক্তি হয়েছে।
সূত্র : দ্য খালিজ টাইমস-এর বিশ্লেষণ।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.