বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদে সপ্তাহে দুইদিন দুপুর ২টার পরে মেডিকেলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তারপরেও ব্যাঙের ছাতার মত প্রতিটা ওয়ার্ডে তাদেরকে দেখা যায় বলার কেউ নেই সবাই টাকার কাছে জিম্মি।
সরেজমিনে দেখা যায় বহির্বিভাগের দ্বিতীয় তলায় নাক, কান, গলা শাখার টিকিট কাউন্টারে বসে মিন্টু নিপ্রো(Nipro)জেএম আই ফার্মা লিমিটেড কোম্পানির দুজন প্রতিনিধিকে খাতায় রেজিস্টার সহ সরকারি সিল মেরে বহির্বিভাগের অসংখ্য টিকিট তাদের কাছে রাখতে দেখা যায়।এ বিষয়ে ঔষধ কোম্পানির মিন্টুকে জিজ্ঞাসা করলে তৎক্ষণাৎ তারা সেখান থেকে উঠে চলে যান।
সেখানে ডিউটিরত সরকারি স্টাফ বাবুল ও রাহাতকে প্রশ্ন করলে আমাদেরকে জানান আমরা তাদেরকে কিছুই বলি না, তারা নিজেরা এসেই সিল দিয়ে নিয়ে যায় ও তারা এখানে বসে খাতায় রেজিস্টার করছে।
পরবর্তীতে নিপ্রো(Nipro)কোম্পানির মিন্টুর কাছে টিকিটের কথা জানতে চাইলে বলে আমরা এই টিকিটগুলো নীলক্ষেত থেকে ফটোকপি করে নিয়ে আসি, এরপরে এই টিকিটগুলোতে কাউন্টারে এসে টিকিটের উপর সিল নিজেরাই দিয়ে নেই কাউন্টারের লোক আপনাদের কিছু বলে না,আমরা যারা ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আছি সবাই ও বহির্বিভাগের আনসারসহ প্রত্যেকটা কাউন্টারে,ডাক্তারদের নানান গিফট্ দিয়ে খুশি করি থাকি তাই আমাদের কিছু বলে না।
জেএমআই ফার্মা লিমিটেড, এস কে এফ কোম্পানির, নিপ্রো(Nipro), মো: মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আরো কিছু তথ্য পেতে তার সাথে সাক্ষাতের দিন ধার্য হয় ঢাকা মেডিকেলে যে কোন স্থানে। পূর্বের কথা অনুযায়ী নিপ্রো কোম্পানির প্রতিনিধি মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কোথায় দেখা করব জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের পাশে আসতে বলেন।
যে কথা সেই কাজ, তার সাথে সাক্ষাতের জন্য জরুরী বিভাগে যায়। তখন তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নিপ্রো,জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার মো:আমিনুল ইসলাম। মোঃ মিন্টুর সাথে কথা বলতে চাইলে নিপ্রো কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার বলল আপনি আমার সাথে কথা বলেন। সে অনুযায়ী এরিয়া ম্যানেজার আমিনুলের সাথে কথা বলা শুরু করতেই পাশ থেকে কথা বলার একপর্যায়ে দৈনিক সকালে সময় পত্রিকার রিপোর্টারে হেনস্তা করা এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও সোহাগ। সোহাগ নিপ্রো (nipro) কোম্পানির সোহাগ ঝিনাইদহ শৈলকুপা বাড়ি, সোহাগের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সেশন ২২/২৩ সোহাগ আবার পরিচয় দেয় আমি মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। একপর্যায়ে দেখা যায় আশে-পাশে আরো ৮/১০জন ঔষধ কোম্পানির লোক দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সাংবাদিকের ঘিরে ধরে তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করেন।
নিপ্রো,জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার মো:আমিনুল তাকে একাধিকবার চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে সেখানে মারধর করা চেষ্টা করেন। এবং চাঁদাবাজ হিসেবে তার সাথে আসা লোকদেরকে আমার ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এক পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেলের রিপোর্টার এনটিভির আল- আমিন ও প্রতিদিনের আলোর সহকর্মী শাওন আসলে তারা আর কথা না বাড়িয়ে এরিয়া ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বলেন সবাইকে খুশি করা হবে নিউজ কইরেন না
এরিয়া ম্যানেজার মোঃআমিনুলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমরা সবাইকে এভাবে ডিপার্টমেন্টে খুশি করে থাকি। আমরা গাড়ি রাখা বাবদ আনসার সদস্যদের ৭০০ টাকা দিয়ে থাকি ও ঢাকা মেডিকেলের সরকারি স্টাফদের ও ডাক্তারদেরকেও দিয়ে থাকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহি- র্বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, পরিচালক স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই বলতে পারব না বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সপ্তাহে দুইদিন দুপুর ২ টার পরে মেডিকেলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।অনিয়মিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ ও তাদের সিল মারার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যখন বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিদর্শনে যাই তখন ঔষধ কোম্পানির লোক থাকে না, আবার আমি চলে আসার পরেই সবাই মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। তাছাড়াও ডাক্তারদের সম্মতি ছাড়া তারা কিভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারেন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.