ভারতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান দেশবাসী—এ নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়েছে। সেই সমীক্ষায় এখনো প্রথম স্থানে রয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ১২ বছর ধরে একই স্থান ধরে রেখেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বড় চমক। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী পছন্দের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
ইন্ডিয়া টুডে-সিভোটার (CVoter)-এর ‘মুড অব দ্য নেশন’ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকে পছন্দ করেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাহুল গান্ধী পেয়েছেন ২৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। আর বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।
এক নজরে ৫ পয়েন্ট
প্রধানমন্ত্রী পছন্দে মোদি প্রথম: ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নরেন্দ্র মোদি এখনো দেশবাসীর প্রথম পছন্দ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাহুল গান্ধী পেয়েছেন ২৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।
তৃতীয় স্থানে বিজয়: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
মমতা চতুর্থ: ২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী পছন্দের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী জোটের নেতৃত্বেও বিজয়: ১২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিজয়কে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন। এই তালিকায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী।
১ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৯টি সাক্ষাৎকারের তথ্য: ২৫ হাজার ১৮৪ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি গত ছয় মাসে নেওয়া আরও ৯১ হাজার ৭৯৫টি সাক্ষাৎকারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজয়ের তৃতীয় স্থানে উঠে আসাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। রাহুল গান্ধীর ঝুলিতে গেছে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। আর বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৯ দশমিক ২ শতাংশ দেশবাসী। শতাংশের হিসাবে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের পেছনে ফেলে বিজয়ের এই উত্থান জাতীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের সমর্থনেই সরকার পরিচালনা করছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাঘম (TVK)। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পেছনে ফেলেছেন বিজয়। মমতার ঝুলিতে গেছে ২ শতাংশ ভোট। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি চতুর্থ পছন্দ।
তবে চমক আরও রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি পেয়েছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তাঁকে। আর ১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ হাজার ১৮৪ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ছয় মাসের নিয়মিত ট্র্যাকিংয়ে নেওয়া আরও ৯১ হাজার ৭৯৫ জনের সাক্ষাৎকারের তথ্যও বিশ্লেষণে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৯ জনের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে সমীক্ষার ফল।
শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের মুখ হিসেবেই নয়, প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবেও দ্রুত উত্থান হচ্ছে বিজয়ের। বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করছেন ১২ দশমিক ২ শতাংশ দেশবাসী। রাহুল গান্ধীর পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। রাহুলের ঝুলিতে রয়েছে ২৯ শতাংশ ভোট। তিনিই এই তালিকায় শীর্ষে। ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর ঝুলিতে গেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.