পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় নির্মাণাধীন জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশন প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শেখ (৫২) সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার (৩০ আগস্ট) সালাম শেখকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং অন্য তিনজনকে পিরোজপুরের কদমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্য যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন— কদমতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাসিব শেখ (২৭), ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু শেখ (৩২) এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।
গত ২৭ আগস্ট চাঁদা দাবি করা হয়েছে— এমন অভিযোগ এনে রোববার পিরোজপুর শহরের কুমারখালী এলাকার মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে জাতীয় গ্রিডের একটি সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ করছে রিংটেক লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পাইপের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে ভরাটের কাজ করছে তাহসিন এন্টারপ্রাইজ। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছেন পিরোজপুর শহরের কুমারখালী এলাকার মো. জাকির হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট থেকে জাকির হোসেন ওই প্রকল্প এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর পর কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাম শেখ তাকে নিজের সঙ্গে অংশীদার করার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রতি ঘনফুট বালু ভরাটের জন্য এক টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন জাকির।
জাকির হোসেনের দাবি, বালু ভরাটের কাজ শুরুর আগে সালাম শেখ তাকে প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য এক টাকা হিসেবে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি, কদমতলা ইউনিয়নের মধ্যে বাইরের লোক দিয়ে বালু ভরাটের কাজ করা যাবে না এবং স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে কাজ করাতে হবে বলে তাকে বলা হয়।চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত ২৬ আগস্ট ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বালু পরিবহনের পাইপ ভেঙে দেয়। এতে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সকালে ঘটনাটি দেখতে পান তারা। পরে পাইপ মেরামত করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগে গত ২৮ আগস্ট মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শেখ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি কোনো চাঁদা চাইনি। স্থানীয় কিছু ছেলে চা-পানির খরচ হিসেবে টাকা চেয়েছিল। পরে আমি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। পাইপ ভাঙার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির একটি মামলায় সালাম শেখকে ঢাকা থেকে এবং অন্য তিনজনকে কদমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সালাম শেখ ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সালাম শেখকে নিয়ে পুলিশ পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হবে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.