কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের ১নং রতিরাম পাঠানপাড়া ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বিধবা হাসনা খাতুন (৬২) প্রায় দুই বছর ধরে বিধবা ভাতা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাতা পাওয়ার আশায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী হাসনা খাতুনের অভিযোগ, নাজিমখান ইউনিয়নের মহিলা সদস্য জেয়ারা খাতুনের স্বামী ভাতা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা পাননি বলে দাবি করেন হাসনা খাতুন।
এদিকে একই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মোসলেম মিয়ার কাছে বিধবা ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে সে-ও ৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন তিনি। হাসনা খাতুনের ভাষ্য, টাকা দিলে তার বিধবা ভাতা করে দেওয়া হবে—এমন কথা তাকে বলা হয়েছে।
হাসনা খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে আয়-রোজগারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি বিধবা ভাতার ওপর আশায় থাকলেও দুই বছর ধরে ভাতা না পাওয়ায় তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “ভাতা পাওয়ার আশায় ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাতা পাইনি।
ভুক্তভোগী হাসনা খাতুন দ্রুত তার বিষয়টি তদন্ত করে বিধবা ভাতা চালু করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) তানজিলা তাসনীম মহাদ্বয়ের কাছে তার অসহায়ত্ব বিবেচনা করে সরকারি অনুদান বা সহযোগিতা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অসহায় ব্যক্তির ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.