রাজধানীর নিউ মার্কেট থানা এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিউ মার্কেট থানার জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মো, মিজানুর রহমান বেপারী তার সিন্ডিকেট নিয়ে বিভিন্ন মার্কেটেও ফুটপাতে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এই চাঁদাবাজির কারণে যুবদলের দল সেক্রেটারি কে এম চঞ্চলের সমর্থনের তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়।
তারা হলেন, সুমন, সোহেল ও আপেল । তারা বহিষ্কার হওয়ার পরও সভাপতি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা মার্কেটে এবং ফুটপাতে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। তাদের দখল বাজি এবং চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজির স্পট গুলো হল, নেহার ভবন, নুরজাহান মার্কেট, কাটাবন বই মার্কেট, গাউসুল আজম মার্কেট, বদরুদ্দোজা চৌধুরী মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, জাহান মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, গ্লোব শপিং মার্কেট, ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেট ও নিউ সুপার মার্কেট সহ আশপাশে বিভিন্ন মার্কেট ও এর সামনে ফুটপাতগুলো থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে বলে একাধিক ব্যবসায়ীদের অভিযোগে এসব তথ্য জানা যায়।
এছাড়াও নীলক্ষেত বাবুপুরা মার্কেটিও দখলবাজি এবং চাঁদাবাজির শুরু করে দিয়েছে । আওয়ামীলীগ সরকার পতন হওয়ার পর থেকে এই মহাউৎসব শুরু করে দিয়েছে যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বেপারী। কিছুদিন আগে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং দখলদারি করতে গিয়ে একই থানার বিএনপির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এক পর্যায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিউমর্কেট থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার ফুটপাত হকার দোকানে বসে আছে।
ফুটপাত ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন জানান, আমরা ব্যবসা করি ঠিকই কিন্তু চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করা যায় না । প্রতিদিন লাইনম্যান কে তিন থেকে চার শ 'টাকা দিতে হয়। এভাবেই প্রতিজনের কাছ থেকে চাঁদার নিয়ে থাকে। প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা তারা হকারদের কাছ থেকে আদায় করে। আবার বড় দোকান হলে পজিশনের জন্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা দিতে হয় এবং তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ টাকা হারে দিতে হয়। গাউছিয়া এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী জাভেদ হোসেন জানান, ব্যবসা ভালো হোক আর মন্দ হোক দোকান বসালেই তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলেও যা হয়েছে এখনো তা হচ্ছে। শুধু সরকার পরিবর্তন বিএনপির নেতাকর্মীরা লাইনম্যান দিয়ে চাঁদা তোলায়। তারা এখনো সরকারি গঠন করেন নাই তাতেই এত কিছু সরকার গঠন হলে পরে তাহলে কি করবে তারা? নির্ধারিত চাঁদার টাকা না দিলে তখন নেমে আসে নির্যাতন। তাই আমরা গরিব মানুষ এভাবেই আমাদেরকে চলতে হবে। দেখার কেউ নেই ! কবির হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, অদ্য এলাকার মার্কেটে ও ফুটপাতে যুবদলের সভাপতি মিজান বেপারীর লালিত পালিত নেতাকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন মার্কেটে দোকান মালিকদের হুমকিও ভয় ভীতি দিয়ে আসছে। এবং বলে প্রতি মাসে চাঁদার টাকার ঠিকমত দিবেন। তা না হলে আপনাদের সমস্যা হবে ও ব্যবসা করতে পারবেন না ।
এভাবেই একের পর এক ব্যবসায়ীদের ও হাকারদের হুমকি দিয়ে আসছে তার লোকজন। এদিকে কাটাবন বই মার্কেট এলাকায় একজন ব্যবসায়ী জানান, তাদের অত্যাচারী এখন দেখি ব্যবসা করার বিরাট সমস্যা মুখে আছি। মনে করছিলাম এবার ভালোভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবো। কিন্তু তারা ক্ষমতা আসতে না আসতে এখনই শুরু করে দিছে চাঁদাবাজি। প্রতিদিন সভাপতি মিজান বেপারী লোকজন বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয় ভীতি হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরোও জানান, যুবদলের সভাপতি মিজান বেপারীর স্ত্রী আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানা গেছে।
মিজান বেপারী অতীতে কি ছিলেন, বরিশাল থেকে ঢাকায় এসে নীলক্ষেত বাবুপুরা বস্তি ও কাঁটাবন বস্তিতে বসবাস শুরু করেন। তখন জানু বেগম সাথে মাদক ও সুদের ব্যবসা করেন। এর পর মিজান বেপারী সুদের ব্যাবসায়ী ময়না বেগমকে বিয়ে করে ময়না বেগমের সাথে সুদের ব্যবসায়ী জড়িয়ে পড়ে এবং সেই সাথে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। এবং তারা দুইজন দীর্ঘদিন যাবত এই সুদের ব্যবসা করে আসছে।
এরপর ২০০৩ সালে যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন। আস্তে আস্তে এক পর্যায়ে যুবদলের পথ পদবী নেন মিজান বেপারী। সুদের ব্যবসার সময় ময়না বেগম থেকে সুকৌশলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পরে ময়না বেগমকে তালাক দেয় মিজান বেপারী । তারপর থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি করে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় তিনতলায় একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই বাড়িতে বর্তমান পরিবার নিয়ে বসবাস করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরো জানা, বর্তমানে মিজান বেপারী নিউ মার্কেট থানার যুবদলের সভাপতি হিসেবে পদ পেয়ে তার বাহিনী দিয়ে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন । নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ফুটপাত থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদা উঠান। সে চার হাজার টাকা ৯ লাখ টাকা উচ্চ পর্যায়ে একজনকে দেওয়া হয় । আর বাকি টাকাগুলো নিজে ও প্রশাসনের লোকজনসহ বিভিন্ন খাতে দিয়ে থাকেন। মিজান বেপারীর অপকর্ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ড এত যে তার লিখে শেষ করা যাবে না ।
এদিকে গত ১২ আগস্ট নিউ মার্কেট থানা এলাকায় ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ শাখার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে নিউ মার্কেট ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ও নিউমার্কেট থানার যুবদলদের নেতা এম এস চঞ্চল বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনায় ওই দিন দুপুরের দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন) তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। নিউমার্কেট থানার এবং ওয়ার্ডে এলাকার যুবদলের এমএস চঞ্চলসহ পাঁচজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ।
বিজ্ঞপ্তি আরো জানানো হয়, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় বহিষ্কৃত এইসব নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে দল থেকে বহিষ্কার হলেই তাদের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি থেমে নেই। এম এস চঞ্চলের নেতৃত্বে সুমন, আজিম, দুলালসহ দুই ডজন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও দোকানে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন। অপরদিকে যুবদল থেকে এমএস চঞ্চল সহ পাঁচজনকে বহিষ্কার করার পর থেকে যুবদলের সভাপতি মিজান বেপারী তার বাহিনী দিয়ে এককভাবে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন । অভিযোগে আরও জানা যায়, মিজান বেপারী নিউ মার্কেট থানার বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ম্যানেজ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে একের পর এক তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এইসব অবৈধ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদে মালিক এখন মিজান বেপারী । এ ব্যাপারে যুবদলের সভাপতি মিজান বেপারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলে তিনি বলেন, ফোন রিসিভ না করার কারনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য নেওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তিনি যদি অভিযুগের ব্যাপারে কোন বক্তব্য দেন তাহলে আমরা তার বক্তব্য প্রকাশ করব।
এই ব্যাপারেনিউমার্কেট থানা এলাকার হকারসহ সকল ব্যবসায়ীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন এইসব দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে আমাদেরকে মুক্ত করুন। এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিন ।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.