সৌদি আরবের তায়েফ, খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট মঙ্গলবার ভোরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, তিনটি শহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। তবে কয়েকজন মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন।
আল-মালিকি বলেন, হামলার কারণে সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে। হুথিরা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তবে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। সোমবার তিনি দাবি করেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের পাঁচটি প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সৌদি হামলার ‘জবাব দেওয়া হবে’ বলে সতর্ক করেন সারি।
এর আগে সোমবার খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারিও দেয় গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘ সময় তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকেই দেশটির সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.