প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি পেশিশক্তির ওপর নয়, মেধা, সেবা ও জনগণের আস্থার ওপর পরিচালিত হওয়া উচিত। আমাদের বিভাজন বন্ধ করে এমন একটি সমাজ গড়তে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেখানে নারীরা আত্মপরিচয় ও অবদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি পাবেন।
বুধবার ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুইটি অ্যান্ড জাস্টিস এই সভার আায়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি কিশোরীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারী ও শিশুর অধিকার তুলে ধরতে সাতটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে কোয়ালিশনটি গঠিত হয়। কোয়ালিশনের পক্ষে সরকারকে নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরতে আহবান জানানো হয়।
প্যানেল আলোচনায় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, দলীয় কাঠামো, মনোনয়নপ্রক্রিয়ার বাধা, নির্বাচনী ব্যয় এবং অনলাইন হয়রানির কারণে নারীদের সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারীদের শুধু সমতা নয়, ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে; কারণ বছরের পর বছর নীতিগত ঘাটতির কারণে তাঁরা পিছিয়ে রয়েছেন। পিংক বাসের মতো উদ্যোগ কয়েক মাস পরপর পর্যালোচনা করে এগুলো হয়রানি কমাতে পারছে কি না, নাকি নতুন কোনো বাধা তৈরি করছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর যত্নে সহায়তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে।
এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, নারী ও শিশুরা এখনও ঘরে, জনপরিসরে, অনলাইনে এবং এমনকি বিচার চাইতে গিয়েও অনিরাপত্তার মুখোমুখি হন। সাইবার আইনে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা এবং ডিপফেকের মাধ্যমে হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও তাপপ্রবাহের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, ফসলহানি, অভিবাসন, শিশুশ্রম, স্কুল থেকে ঝরে পড়া এবং দারিদ্র্যের মাধ্যমেও জলবায়ু পরিবর্তন নারী ও শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি জনবান্ধব জলবায়ু পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়নের সুশাসন জোরদার এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.