ঢাকা,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের সূচনালগ্ন হতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রতিবছর ২৮শে সেপ্টেম্বর তারিখ ‘বিমান বাহিনী দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। আজ সোমবার (২৮-০৯-২০২৬) মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বগাথা ধারণ করে প্রতিবছরের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, আজ ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ৫৫ বছরের পথচলা ও অর্জন নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা, বিমানসেনা, এমওডিসি (এয়ার) ও বেসামরিক সদস্যদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময়, তিনি দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় বিমান বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দেশের আপামর জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম, পিএসএ (অবঃ) মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন। সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর সাহসী সদস্যগণ সেক্টর কমান্ডারের মত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতিকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিমান বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আর এই লক্ষ্যে, ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অটার বিমান, একটি ড্যাকোটা বিমান ও একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার এবং কয়েকজন দুর্ধর্ষ বাঙালি বৈমানিক, বিমানসেনা ও বেসামরিক বৈমানিকসহ ৫৭ জন সদস্য নিয়ে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ‘কিলো ফ্লাইট’ নামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যাত্রা শুরু করে। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ (মরহুম), বীর উত্তম, এসিএসসি, (অবঃ) কিলো ফ্লাইটের অধিনায়ক এর দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫০টিরও অধিক বিমান অভিযান সাফল্যের সাথে পরিচালনার মাধ্যমে ‘কিলো ফ্লাইট’ মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
বিমান বাহিনী দিবস এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকের এই দিনে বিমান বাহিনীর সকল ঘাঁটি, ইউনিট ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কন্টিনজেন্টসমূহে (BANAIR) বিমান বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মসজিদসমূহে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.