গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে স্টেশনারি ও বিবিধ মালামালের স্টোর পরিচালনাকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের সাবেক ফার্মাসিস্ট সুজন কুমার সূত্রধরের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের দাপ্তরিক নথি, কৈফিয়ত তলব, ইনভেন্টরি কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সরকারি যোগাযোগে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং স্টোরের মালামাল বুঝিয়ে না দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ জুনের আদেশে সুজন কুমার সূত্রধরকে স্টেশনারি ও বিবিধ মালামালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ তাকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও মালামাল স্টোর কিপার মো. ওমর ফারুকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্ব ও মালামাল বুঝিয়ে দেননি।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর একটি স্টোর ইনভেন্টরি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সুজন কুমার সূত্রধরের উপস্থিতিতে স্টোর খোলা হয় এবং সে সময় স্টোরের বর্তমান মজুদ যাচাই করে চার্জলিস্ট প্রস্তুত করা হয়। তিনি স্টক রেজিস্টার ও স্টোরের মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা হস্তান্তর করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইনভেন্টরি কমিটির নথিতে স্টেশনারি, মনিহারী ও বিবিধ মালামালের মজুদ ও ঘাটতির পরিমাণ হিসেবে ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্টোরে বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামালের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, সুজন কুমার সূত্রধর স্টোরের দায়িত্বে থাকার সময় ঠিকাদারদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে মালামাল ক্রয় না করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে এ ৪০ লাখ টাকার অভিযোগ এবং ইনভেন্টরি কমিটির উল্লেখ করা ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৫ টাকার ঘাটতির হিসাব একই বিষয় কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করা হয়। নথিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে কৈফিয়ত চাওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয় বলেও হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিষয়ে একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি সন্তোষজনক জবাব দেননি বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দাবি করা হয়েছে।
স্টোরের মালামালের ঘাটতি ও দায়িত্ব হস্তান্তর না করার ঘটনায় ইনভেন্টরি কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র পাঠানো হয়।
এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে সুজন কুমার সূত্রধরকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফার্মাসিস্ট পদে বদলি/পদায়ন করা হয়। সরকারি আদেশে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
নথিতে আরও দেখা যায়, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সুজন কুমার সূত্রধর সেখানে যোগদানপত্র দাখিল করেন। একই সময়ে তার শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র ও চাকরির খতিয়ান চাওয়া হলে টঙ্গীর হাসপাতালের নথিতে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির পাশাপাশি স্টোর ইনভেন্টরি কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৫ টাকা মূল্যের স্টেশনারি ও বিবিধ মালামালের ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে।
তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো—স্টোরের বিপুল পরিমাণ মালামালের ঘাটতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই তাকে ছাড়পত্র বা এলপিসি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ও
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে এলপিসি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এলপিসিতে স্টোরের ঘাটতি বা আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।তবে ঘুষ লেনদেনের এ অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি; বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি সম্পদের এত বড় অঙ্কের ঘাটতি নিরূপণের পরও কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ছাড়পত্র দেওয়া হলো এবং তার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি আদায় ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি স্টোরের মালামালের ঘাটতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থ/সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সুজন কুমার সূএধরে বদলী কৃত কর্মস্হলে যোগদানের পর বেতন ভাতা উওোলনের জন্য ই এল পি সির প্রয়োজন হলে সে তও্বাবধায়ক (উপ পরিচালক) ও সহকারী পরিচালক কে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিময়ে তারা এল পি সি তে প্রতিষ্ঠানের আত্নসাদ কৃত প্রায় ৪০ লাখ টাকার কথা LPC তে লিপি বদ্ধ করে নাই বলে অভিযোগে জানা গেছে। তাই সরকারের এই টাকা আত্মসাৎ করার জন্য কাজটি সম্পূর্ণ করেছে তারা। এখন যদি তরিৎ গতিতে কোনো ব্যাবস্হা গ্রহন না করলে তাহলে ওই টাকাটা সরকারের কোষাগারে ফেরৎ পাওয়া যাবে না । এখন অএ হাসপাতালে অডিট হচ্ছে তাই জরুরি ব্যাবস্হা নেওয়া দরকার বলে হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবি ।
অভিযোগের বিষয়ে সুজন কুমার সূত্রধরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.