ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অস্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি বর্তমানে এক চরম জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এই সমস্যা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে,স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা এখন রীতিমতো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রাস্তার বিভিন্ন অলি- গলিতে দলবদ্ধ কুকুরের অবাধ বিচরণ পুরো এলাকায় এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে।
চলাচলের রাস্তাসহ প্রতিটি মোড়ে দলবদ্ধ কুকুরের অবস্থান দেখা যায় , ওরা অনেক সময় একা পথচারীকে ঘিরে ধরে বা তেড়ে আসে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কোমলমতি শিশু, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও প্রবীণরা। অনেক অভিভাবক সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন, যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সামাজিক চলাফেরাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই গেল দিনের চিত্র রাতের চিত্র আরো ভিন্ন। দিনের বেলায় কুকুর আর রাতের বেলায় শিয়ালের উপদ্রপে জনজীবনে দুর্ভোগ অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
উপজেলায় সন্ধ্যা নামলেই শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যায়। দল বেঁধে শিয়াল বাড়ি-ঘরের আনাচে-কানাচে ঘোরাফেরা শুরু করে। এতে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল এমনকি ছোট শিশুদের নিয়েও ভয়ে আছে বাসিন্দারা। সন্ধ্যার আগেই গবাদিপশু ও ছোট শিশুদের নিয়ে ঘরে চলে আসতে হয়। শিয়াল-কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অমৃত মন্ডল বলেন, কী আর কইয়াতাম ভাই, দিনের বেলা কুত্তা আর রাইতে হিয়ালের তাণ্ডবে আমরা আছি বড়ই যন্ত্রণায়। এসবের কারণে গবাদি পশু-পাখিসহ বাচ্চাদের নিয়ে সারা দিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
কি আর কমু গো ভাই? আমরা বন্দের বাইত থাহি খুব বিপদে । হিয়ালের জ্বালার কথা আর কি কমু? দিনে দুপুরেই বাড়ির চার দিকে ঘুরাঘুরি করে কোন সময় যে কামড় মারে । রাত হলে তো কথাই নাই।
এরওপর নতুন আরো জ্বালা, দিনে কুকুরের জ্বালা আর রাতের বেলায় শিয়ালের খেলা। আর ভাল লাগে না। আল্লাহ ছাড়া আমাগো আর কেউ নাই।” এমনি করে মনের দুঃখে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার কলেজ পাড়ার গৃহবধূ জাহানারা বেগম।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যাটি কেবল আতঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক বা রেবিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে শতভাগ প্রাণঘাতী হতে পারে।এ-সব জন দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চান উপজেলাবাসী।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.