ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ঢাকা উত্তরে দলের মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মুর্শিদ আলম সিদ্দিকী এবং দক্ষিণে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা মাহবুবুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন সঞ্চালনা করেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও জেলাতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
ঘোষিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিদ্যমান সংকট সমাধানে তাদের প্রার্থীরা যোগ্যতার পরিচয় দেবেন বলে তারা আশাবাদী।
নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, দলীয়ভাবে সারা দেশে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম চলবে। তবে সমমনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ খোলা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে তারা আগ্রহী।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আয়োজন চলছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রেও কমিশন সরকারের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
তিনি বলেন, আন্দোলনের ঐক্য অটুট রাখতে নির্বাচনী সমঝোতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বড় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। সমঝোতা না হলে এর দায় তাদেরও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকারের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সরকারকে এ ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে হবে। জুলাই বিপ্লব ও জুলাই সনদের অভিপ্রায় অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে সমমনা রাজনৈতিক দল ও বিরোধী জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, ওই দিনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, অ্যাডভোকেট শাহীন পাশা চৌধুরী (সাবেক সংসদ সদস্য), মাওলানা কোরবান আলী ও মাযহারুল হক; সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ মুসা, আব্দুল হাসনাত জালালী, মোহাম্মদ ফয়সাল ও মসউল হাসান; প্রচার সম্পাদক হারুন হুরাইয়া; যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজাউল করিম, নূ মুহাম্মদ আজীজী, সালাউদ্দিন ও মসউল জালালীসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.