
সংরক্ষিত ছবি
ঢাকা ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (ডেসকো) সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম প্রধান কার্যালয়, এবং কাফরুল ডিভিশনের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরা বেগম, তারা স্বামী- স্ত্রী মিলে অবৈধভাবে বাড়ী, গাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন।
সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (ডেসকো)ঢাকা খিলক্ষেতে কর্মরত আছেন। তার স্ত্রী মনিরা বেগম কাফরুল ডিভিশনে সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। উত্তর এলাকা থেকে আকরাম আলীর ছেলে আজহার আলী নামের ব্যক্তি গত ৬ অক্টোবরের লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন সেগুনবাগিচাস্হ জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের বরাবর। সেই অভিযোগ থেকেই বিভিন্ন অভিযোগের তথ্যগুলো পাওয়া গেছে। অভিযোগের সূত্র থেকে নিম্নে অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে।
মনিরা বেগম পারভিন এর টিআইএন নং-৪২৬২৫৩৪৩১৩৪৭, কর সার্কেল-১৩১, কর অঞ্চল-০৬ । রেজাউল করিম পশ্চিম বাইশটেকী, সেকশন-১৩, কাফরুল, থেকে একটি গাড়ী ক্রয় করেন। গাড়ীর বিবরণ: ঢাকা মেট্রো -চ-১৮-৭১৬৯ , HONDA CR-V 1.5, Engine No: L15BG2260421, Chassis Number: MRHRW2880LP050320, CC NO: 1498, Color: White, Manufacture Date: 2020, গাড়ীর মূল্য ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তার স্ত্রী মনিরা বেগমের ব্যবহারকৃত গাড়ি ঢাকা মেট্রো -চ -২০-৫৫৭৮, Chassis No: ZWR80-0319681, Engine No: 2ZR-OB53011, Year: 2018, উক্ত গাড়ীটি ২৪ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করে, গাড়ীটির প্রকৃত মূল্য ৫৪ লাখ টাকা। সরকারকে আয়কর ফাকি দেওয়ার জন্য গাড়ীর মূল্য কম দেখিয়েছেন।
তার স্থায়ী ঠিকানাঃ বাসা-১২/১, শহিদমিনার রোড, পশ্চিম কল্যানপুর, ঢাকা।
তারা দুইজন ডেসকোর সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ তদবির এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তারা ।
তাদের বর্তমানে ঢাকা ক্যান্টমেন্ট এলাকায় ইসিবি চত্তর এলাকায় একটি ৭ম তলা বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকা নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্মের কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তাদের দুইজনের নামে ডেসকো লিমিটেড প্রধান কার্যালয় শত শত অভিযোগ জমা পড়ে আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এইসব ঘটনা দেখেও না দেখার ভান করে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। রেজাউল করিম দুর্নীতি ও অপকর্মের কারণে কয়েকবার সাসপেনশনে ছিলেন অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ঘুষ গ্রহনের দায়ে। তাদের দুইজনের অবৈধ সম্পদের নিম্নে তুলে ধরা হলো,
(১) বাসা-১৭/৮/১, ফ্ল্যাট-৬/এ, পশ্চিম বাইশটেকী, সেকশন-১৩, কাফরুল, মিরপুর, ঢাকা। ফ্ল্যাটটি রেজাউল কমির নিজ নামে ক্রয় করেছেন কোটি টাকা দিয়ে। (২) বাসা-১২/১, শহিদমিনার রোড, পশ্চিম কল্যানপুর,।উক্ত বাড়ীটির মনিরা বেগম এর নামে রেজিষ্ট্রিকৃত ৬ষ্ঠ তলা ভবন যার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। (৩) বাসা-৬৭৮, ফ্ল্যাট নং-জি/১, রূপনগর আবাসিক, এলাকা মিরপুর, থানা-রূপনগর, ঢাকা। (৪) বাসা নং- ৬৭, রোড- ১২, এভিনিউ- ০১, নিকুঞ্জ- ১. খিলক্ষেত, ঢাকা। উক্ত বাসার ৪থ তলায় তিনি একটি ২৫০০ বর্গফুটের আলি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। (৫) বাসা নং- ০৯, রোড নং- ০৩, ব্লক-বি, কাদিরাবাদ হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। উক্ত বাড়িটি ৬ষ্ঠ তলা বিশিষ্ট ভবন যা প্রায় তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে নি করেছেন। (৬) বাসা নং- ৯৮, রোড নং- ৬, পশ্চিম পীরের বাগ, মিরপুর, ঢাকা। উক্ত বাড়ীটির ৫ম তলা বিশিষ্ট। উক্ত বাড়ীটি তার নামে হয়েছে। বাড়ীটি নির্মাণ করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। (৭) বাসা নং- ৭১, রোড- ০৬, ময়মনসিংহ সদরে, ৫ম তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে। (৮) ফ্ল্যাট নং- ৮৭, রোড নং- ১৪, রামপুরা, ঢাকা উক্ত বাসার ২য় তলায় তিনি নিজ নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে। (৯) বাসা- ২৩ রোড-০১, সাভার, পৌরসভার পিছনে উক্ত বাসাটি তিনি ৫ কাঠা জমির উপর একটি ৫ম ভবন নির্মাণ কাজ করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকার উপরে। (১০) বাসা নং- ৩৪, রোড-০২, সেক্টর- ১৫, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। বাড়ীটির ৪র্থ তলায় তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় করে। (১১) গাজীপুর কাপাসিয়ায় ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। এ ব্যাপারে ডেসকোর সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠো ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সেই কারণে উক্ত অভিযোগের তার কাছ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তার স্ত্রী মনিরা বেগমের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি । এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগকারী আজহার আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তদন্ত করলে আরো অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.