কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নারী নির্যাতন, মারধর ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক নারী মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো বাদীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন, এতে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
জহিরুল কবির বলেন, “গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইসরাত জাহান শশীদল রেল স্টেশন থেকে একটু সামনে রেললাইনের পাশে এসে আমাকে ফোন করে জানায়, যদি আমি মামলা তুলে না নেই তাহলে সে আত্মহত্যা করবে। পরে তাকে আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে স্হানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর তার বোন থানা পুলিশ নিয়ে আমার বাড়িতে আসে এবং তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। এরপর সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।”
জহিরুল কবির আরও দাবি করেন, “ইসরাত জাহান ১১ বছর আগে তার প্রথম স্বামী কাজী মোঃ খোরশেদকে তালাক দেয়। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল আজিম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে, তাদের সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। পরে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এখন আবার কীভাবে সে ১১ বছর আগে তালাক দেওয়া স্বামীকে ‘স্বামী’ দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে? তার বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সে প্রভাব খাটিয়ে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, আমি আমার মেয়েটিকে ফেরত চাই। আমি এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাদীর বিরুদ্ধে বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসরাত জাহানের তিনজন স্বামীর নাম কাগজপত্রে পাওয়া গেছে কাজী মোঃ খোরশেদ, আব্দুল্লাহ আল আজিম ও জহিরুল কবির।
এ বিষয়ে ইসরাত জাহান এর বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মোবাইলে বারবার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, একই সঙ্গে একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকা শরিয়ত ও দেশের আইনে অবৈধ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.