সরকার পরিবর্তনের পরও বদলির বাইরে বিআরটিএর গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বিতর্কিত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ! বিগত সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ে, প্রভাবশালী আত্মীয়ের সমর্থন ও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে । আলোচনা- সমালোচনা মধ্যেই বিআরটিএ'র হেড অফিসে এখনো বহাল তরিয়তে রয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন হলেও সড়ক পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বেশ কিছু পদে পূর্বের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বহাল অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে উচ্চমান সহকারী তোফাজ্জল হোসেনকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা- সমালোচনার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিআরটিএ অফিসে।
তার দুর্নীতি-অপকর্মের কর্মকাণ্ড দেখে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা -কর্মচারীরা হতভঙ্গ হয়ে পড়েছেন। চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্মের দায়ের শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। অবশেষে বিআরটি হেড অফিসে এসে দুর্নীতির আখড়া গেড়েছেন তোফাজ্জল হোসেন।
অভিযোগে জানা গেছে, তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত তোফাজ্জল হোসেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। সেই প্রভাবের কারণেই তিনি বিআরটিএ'র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বিআরটিএ অফিসের সাধারণ কর্মকর্তা - কর্মচারীদের দাবি, দিনের বেলা তিনি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করলেও রাতে তৎকালীন যুব মহিলা লীগের প্রভাবশালী নেতা অপু উকিলের চেম্বারে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
২০১২ সালে তিনি ঢাকা মেট্রো সার্কেল–২ -এ দায়িত্ব পান করেন এবং একটানা প্রায় ৬ বছর সেখানে কর্মরত থাকেন। সাধারণ প্রশাসনিক রোটেশনের নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বদলির কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। ঢাকার বাইরে তাকে কোনোদিনই পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। যেখানেই চাকরি করতেন সেখানেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তোফাজ্জল হোসেন দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরে পর বছর দুর্নীতি -অপকর্মের চালিয়ে যাচ্ছেন ।
সবারই একই অভিযোগ এত কিছুর পরেও কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে। তার সম্পর্কে দেখার কেউ নেই ? সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা তোফাজ্জল হোসেনের দুর্নীতি ও অপকর্মের কথা জেনেও কেন চুপচাপ রয়েছেন।
ঢাকা মেট্রো সার্কেল–২ এর পর তিনি ঢাকা মেট্রো সার্কেল–১, ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ড, এবং সদর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন—যার ফলে তার পুরো চাকরি জীবনের অধিকাংশ সময়ই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ গুলোতেই কাটাছেন।
লাইসেন্স বোর্ডে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে তোফাজ্জল হোসেন ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সংস্থার ভেতরে অসন্তোষ থাকলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার
সাহস পেতেন না। তিনি এককভাবে রাজত্ব কায়েম করে আসছেন।
তার পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে উঠে আসে তার আপন চাচা কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনের নাম । যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাবশালী ছিলেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই সম্পর্কই তাকে বহু বছর ধরে “অস্পর্শযোগ্য” করে রেখেছিল। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ওই সময় তার বিরুদ্ধে কিছু বলতেন না । বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিতারিত হলেও কিন্তু তোফাজ্জল হোসেন এখনো বহাল তরিয়তে রয়েছেন।
ছাত্র আন্দোলনের পর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও তোফাজ্জল হোসেন এখনো তার পদে বহাল রয়েছেন। এতে বিআরটিএ'র অন্যান্য কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে -দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কিভাবে বদলির বাইরে রয়ে গেলেন?
বিআরটিএ'র কর্মকর্তা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি না হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সংস্থাটিকে সুশাসনের পথে ফেরাতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এখন প্রশাসন সংস্কারের পথে এগিয়ে নিতে গেলে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি তারা আগের মতোই বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করবেন এই প্রশ্নটি সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.