রাজধানীর মগবাজার এলাকায় জান্নাতুল ইসলাম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে মুখে স্প্রে ছিটিয়ে হাত-পা বেঁধে অচেতন অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার(১৭ এপ্রিল) দুপুরে মগবাজারের আমবাগে নিজেদের বাড়ির তৃতীয় তলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক দুর্বৃত্ত ঢুকে এই চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জান্নাতুল ইসলাম ঢাকা মহানগর উত্তরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) অর্থ সম্পাদক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী। তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন।
ইসলামী আন্দোলন নেতা রাকিবুল হাসান দাবি করেন, ২৮৬/৪/এ নম্বর আমবাগ মগবাজার ছয় তলা নিজ ভবনের তৃতীয় তলায় তার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে বিকেলের দিকে অচেতন অবস্থায় স্ত্রীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, দুপুরের দিকে আমি বাজার করার জন্য কাওরানবাজার এলাকায় গিয়েছিলাম। আমার ১৮ মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে, সে বারান্দায় খেলা করছিল। বাসায় কেউ না থাকায় সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় এক দুর্বৃত্ত বাসায় এসে কেচি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আমার স্ত্রীকে বলে কোর্ট থেকে আপনার স্বামীর নামে উকিল নোটিশ এসেছে। স্বাক্ষর করে কাগজটা বুঝিয়ে দিতে হবে। তখন আমার স্ত্রী কেচি গেটের সামনে আসলে তার মুখে স্প্রে জাতীয় পদার্থ ছিটালে আমার স্ত্রী দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে ওই দুর্বৃত্ত কেচি গেট খুলে বাসায় ঢুকে আমার স্ত্রীর হাত-পা ও মুখে স্কচস্টেপ লাগিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে আমার স্ত্রীর কিছুটা জ্ঞান ছিল। পরে তাকে টেনে–হেঁচড়ে রুমে নিয়ে দুর্বৃত্ত বলে– তোকে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করে তোর স্বামীকে মামলায় ফাঁসাব। তোর স্বামী অনেক বাড় বেড়েছে। এ সময় আমার স্ত্রীর কাছ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যেতে চায় এবং এর পাসওয়ার্ড জানতে চেয়েছে। তখন বাইরে থেকে ওই অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের মোবাইলফোনে কল আসলে সে আমার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়।পরে আমি বাসায় এসে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। আমি রাজনীতির পাশাপাশি হজ যাত্রীদের জন্য একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করি। আমার ধারণা ওই দুর্বৃত্ত আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বাসায় এসেছিল। তবে সে বাসা থেকে কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারেনি। শুধু কয়েকটি কাগজে আমার স্ত্রীর আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে গেছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে অবগত করেছি ।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.