দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পৈত্রিক জমি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে আপন বড় ভাই ও ভাতিজাদের হাতে মারধর ও পরে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী মোঃ দুলাল মিঞা (৫৮), পিতা মৃত দলিল উদ্দিন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর পলাশবাড়ী সর্দারপাড়া এলাকায় পৈত্রিক জমি নিয়ে দুলাল মিঞার সঙ্গে তার আপন ভাই মোঃ বদরুদ্দোজা বয়েজ উদ্দিন (৬৫) ও তার ছেলে মোঃ সুমন ইসলাম (৩৮) এবং মোঃ আতিকুর রহমান সোহাগের (৩৫)-এর বিরোধ চলছিল।
গত ৯ ডিসেম্বর তারিখ বেলা ১১টার দিকে দুলাল মিঞা উক্ত জমির পাশে গেলে বিবাদীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এসময় অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগী হওয়া সত্ত্বেও বিবাদী সুমন ইসলাম তাকে বুকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে বদরুদ্দোজা ও সোহাগ এলোপাতাড়ি মারপিট করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে। অতিরিক্ত আঘাতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
তার মেয়ে সুমি আক্তার এগিয়ে এলে বিবাদীগণ প্রকাশ্যে তাকে জমি না দেওয়ার হুমকি দেয় এবং পুনরায় জমিতে গেলে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে মেয়ের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশী নুরনেহার বেগম, আঞ্জুয়ারা বেগমসহ স্থানীয়রা ছুটে এসে দুলাল মিঞাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পায়। অভিযোগকারীর পরিবার জানায়, হামলার পরদিন প্রতিপক্ষরা তাকে বাড়ির মূল গেটের বাহিরে তালা লাগিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে। বাইরে বের হতে না পেরে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝে গেটের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগে উল্লিখিত জমির তফশিল-
মৌজা: পলাশবাড়ী, দাগ নং: ৪৩৮১, ৪৩৮২, জমির পরিমাণ: ১ একর ০৫ শতক।
বীরগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.