সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি সেনা সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এসময় স্বজনদের আহাজারি আর চোখের পানিতে ভারী হয়ে ওঠে উলিপুর ও রাজারহাটের গ্রামদুটি।
সুদানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কুড়িগ্রাামের দুই সেনা সদস্য শান্ত মন্ডল ও মমিনুল ইসলামের মরদেহ আজ হেলিকপ্টারে করে পৌঁছায় উলিপুর হ্যালিপ্যাডে।
রবিবার সকাল থেকেই নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা অপেক্ষায় থাকেন উলিপুর হ্যালিপ্যাড মাঠে। ঢাকা থেকে সকাল ১০টায় হেলিকপ্টার ছাড়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া জনিত সমস্যার কারণে মরদেহ পৌঁছাতে দেরি হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারে উলিপুরে অবতরণ করলে শোকের আবহ আরও ভারী হয়ে ওঠে। হ্যালিপ্যাড থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে সৈনিক মমিনুল ইসলামের মরদেহ নেওয়া হয় উলিপুর উপজেলার পান্ডুল গ্রামে। বিকেল ৪টার দিকে গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অন্যদিকে সৈনিক শান্ত মন্ডলের মরদেহ নেয়া হয় রাজারহাট উপজেলার ছাটমাধাই গ্রামে। বিকেলে আসরের নামাজ শেষে জানাজান্তে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। এসময় গ্রামে শোকের মাতম ও স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। রাজারহাট উপজেলার ছাটমাধাই গ্রামের শান্ত মন্ডল ছিলেন মৃত সাবেক সেনা সদস্য নুর ইসলাম মন্ডল ও সাহেরা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র।
২০১৮ সালে এসএসসি পাসের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। চলতি বছরের নভেম্বরে শান্তি মিশনে সুদানে যান। সেখানে বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান এই তরুণ সেনা। নিহত শান্ত মন্ডলের স্ত্রী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্বা। স্বামীর মৃত্যুতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি।
উলিপুর উপজেলার পান্ডুল গ্রামের মমিনুল ইসলামও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাত্র কয়েক মাস আগে পরিবারের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে মিশনে যোগ দেন তিনি। পরিবারে তার স্ত্রী, দুটি কন্যা সন্তান,মা-বাবা ও ভাই বোন রয়েছে। দুই বীর সেনা সন্তানের মৃত্যুতে শোকস্তবদ্ধ পুরো এলাকা। স্বজনদের পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও। দেশের শান্তি রক্ষায় বিদেশের মাটিতে জীবন দেওয়া দুই বীর সেনা চিরনিদ্রায় শায়িত হলেও রেখে গেলেন অগণিত অশ্রু আর গভীর শূন্যতা।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.