সুনামগঞ্জ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগী ও আত্মীয়-স্বজনরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ন্ত্রণকারী সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. জসিম উদ্দিন ও টি এস এ ডাক্তার ইকবাল হাসানের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলো জিম্মি করে রেখেছেন । তাদের কাছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও নার্সরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে । রোগীরা বিরম্বনা আর ভোগান্তির শিকার হয়েও সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেসগুলোতে চিকিৎসক থাকলে ওষুধ পাওয়া যায় না আর ওষুধ পাওয়া গেলে চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। এভাবেই দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে হ-য-বড়ল অবস্থায় চলছে।
অভিযোগে জানা গেছে, আগত রোগীদের সঠিকভাবে সেবা প্রদান না করে ওই সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ঠিকাদারদের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন। সেসব অর্থ দিয়ে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার জসিম উদ্দিন ও ডাক্তার ইকবাল হাসান সহ তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া সত্যে জানা গেছে, ডাক্তার জসিম উদ্দিন ও ডাক্তার ইকবাল হাসান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে । এক কথায় বলা যায় তারা আওয়ামী লীগের দোসর এবং অর্থ যোগানদাতা হিসেবে এখনো কাজ করছেন । ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও ডাক্তার জসিম উদ্দিন ও ডাক্তার ইকবাল হাসানের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । তারা এখনো সুনামগঞ্জ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে দুর্নীতি ও অপকর্ম করে দিদারসে চলছেন ।
তাদের এইসব অপকর্ম এবং দুর্নীতির কর্মকাণ্ড দেখার কেউ নেই ! অভিযোগে আরো জানা গেছে , সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে তারা এই দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুলোতে স্বাস্থ্য সেবার নামে মূলহোতা সহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা হরিলোট করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে খাচ্ছেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তাদের ভয়ে কোন প্রকার প্রতিবাদ করছেন না প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা বদলি করে দেন। জনবল সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরশা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসাপাতালটি ২০২৩ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও কার্যত এটি ৩১ শয্যাতেই রয়েগেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সকল বিভাগেই চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। চিকিৎসক না থাকায় যে কোন রোগী আসলেই রেফার করা হয় জেলা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে। হাসপাতালে ২৫ জন নার্স পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৬ জন নার্স। এরমধ্যে ৩ জন নার্স পড়াশোনার জন্য ছুটিতে আছেন।
এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের সিজার অপারেশন থিয়েটারটি উদ্বোধনের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুর্গম এই উপজেলার গর্ভবর্তী মহিলাদের প্রসব কার্যক্রম বিভাগীয় শহর কিংবা জেলা সদরে গিয়ে করাতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শেষ নেই মানুষের। অন্যদিকে টেকনেশিয়ান না থাকায় হাসপাতালের একমাত্র এক্সরে মেশিনটিও কাজে আসছেনা। ফলে রোগীদের এক্সারে পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে এম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদা দিয়েও ডাক্তার, নার্স পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসাপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারজানা বলেন,হাসপাতালে গর্ভবতী নারীদের
চিকিৎসার সেবার জন্য কোনো গাইনি ডাক্তার নেই।
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে অন্তত একজন হলেও গাইনি ডাক্তার থাকা খুবই জরুরি। মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আসে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিনই সেবা নেওয়ার জন্য আসেন। কন্তু এখানে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা। অনেকে বাধ্য হয়ে পাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন কিন্তু সবারতো প্রাইভেট হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। জনস্বার্থে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যা ডাক্তার ও নার্স দ্রুত নিয়োগের দাবি জানাই।'
শুধু ৫০ শয্যা বিশিষ্ট দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই নয়, জনবল সংকটে উপজেলার ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সবকটিরই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও খুঁড়িয়ে চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতেও কোনোটিতেই চিকিৎসক নেই। কেবলমাত্র একজন করে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) দিয়ে চলছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরো কার্যক্রম। চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রর উপসহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসক, মিডওয়াইফ ও অফিস সহকারিসহ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যান্য সকল পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে।
একাই সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েও ডিউটি করতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইকবাল হাসান জানান, হাসপাতালে ঔষুধ সংকটে , ডাক্তার ও নার্স সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন জানান, 'জেলার সব হাসাপাতালেই ডাক্তার সংকট। তবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট প্রকট। এব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছি। ডাক্তারের চাহিদা জানিয়েছি।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.