উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা। টানা প্রায় দশ দিন ধরে কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন কার্যত স্থবির। দিনে মাঝে মধ্যে দুই-তিন ঘণ্টা রোদ মিললেও অধিকাংশ সময় কুয়াশা আর শীতের দাপটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, অসহায় বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। কুয়াশার কারণে শিশুদের চলাচল ও দৃষ্টিশক্তিও পড়েছে বিঘ্নে।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, গোধুলি বৃদ্ধাশ্রম, বিভিন্ন এতিমখানা ও অলিগলি ঘুরে শীতার্ত মানুষের খোঁজ নেন। খোলা আকাশের নিচে কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের হাতে নিজে কম্বল তুলে দেন তিনি।
রাতের কুয়াশার দাপটে যখন হাত বাড়ালেও সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না, তখন ইউএনও সুমা খাতুন খুঁজে খুঁজে বের করেন শীত নিবারণের সামান্য সম্বলহীন মানুষগুলোকে। কারও ঘর নেই, কারও নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। এমন অসহায় অবস্থায় একটি কম্বলই হয়ে ওঠে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। কখনও কাঁধে জড়িয়ে দিয়েছেন কম্বল, কখনও সযত্নে হাতে তুলে দিয়েছেন তা।
ইউএনওর এই মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, এত গভীর রাতে একজন ইউএনও নিজে এসে আমাদের খোঁজ নেবেন, কম্বল দেবেন—এটা আমরা কল্পনাও করিনি। এই শীতে এই কম্বল আমাদের প্রাণ বাঁচাবে।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে প্রশাসন মানেই শুধু ফাইল-কলম আর অফিসকক্ষ নয়; প্রশাসন হতে পারে বিপদে পড়া মানুষের সবচেয়ে কাছের আশ্রয়স্থল।
এ বিষয়ে ইউএনও সুমা খাতুন বলেন, এই তীব্র শীতে কেউ যেন কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা।
হাড়কাঁপানো শীতের এই রাতে প্রশাসনের এমন সরাসরি উপস্থিতি অসহায় মানুষের মনে শুধু উষ্ণতা নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার সাহসও জুগিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবাই এগিয়ে এলে কোনো শীতার্ত মানুষকেই আর কষ্ট পেতে হবে না।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.