চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৮তম শুভ জন্ম মহোৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজিত এ জন্ম মহোৎসব উপলক্ষে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল সমবেত সান্ধ্যকালীন বিনতি প্রার্থনা, নামজপ, অমিয় গ্রন্থাদি পাঠ, কর্মী সম্মেলন, মাঙ্গলিক নহবত ও ঊষা কীর্তন। এছাড়াও সমবেত প্রাতঃকালীন বিনতি, আশীর্বাণীসহ অমিয় গ্রন্থ পাঠ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ ও নামসংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী লিখন ও সংগীত প্রতিযোগিতা, শ্রী শ্রী ঠাকুর প্রবর্তিত ছড়াগান, মাতৃসম্মেলন এবং ‘সংসার ও পারিপার্শ্বিকতায় মায়েদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ভাণ্ডারায় প্রসাদ বিতরণ, ভক্তিমূলক গানের আসর, ধর্মসভা—শ্রী শ্রী ঠাকুরের দিব্য জীবন ও আচার্য পরম্পরা বিষয়ে আলোচনা, নৃত্যানুষ্ঠান এবং ছন্দের তালে তালে পরিবেশিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত ভক্তদের মুগ্ধ করে। সান্ধ্যকালীন সমবেত বিনতি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মহতী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
এ উপলক্ষে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নর-নারী ভক্তবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন প্রশান্ত কুমার নন্দ নন্দী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন গোপাল কৃষ্ণ চৌধুরী। অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সন্তোষ কুমার শীল। প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন নূপুর কান্তি দেব। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিজয় কৃষ্ণ চৌধুরী, বিশ্বজিৎ বল ও অনিল কান্তি পালসহ পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণে তাঁর অবদান এবং সৎসঙ্গ দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
শেষে সকলের মঙ্গল ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে জন্ম মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.