নীলফামারী জলঢাকায় শার্প এনজিও সংস্থার ম্যানেজার কর্তৃক ফিল্ডকর্মীর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে। এ অর্থ আত্মসাৎতের ঘটনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন কল্পনা রানী রায় (৩০) নামের এক ভুক্তভোগী এনজিও ফিল্ডকর্মী।
উপজেলা মীরগঞ্জ ইউনিয়নের হেল্প এন্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রাম শার্প-১ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ফিল্ড অফিসার কল্পনা রানী রায় গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, গত এক মাস ধরে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার কুশিন চন্দ্র রায় (৪২) অফিসের নিয়মবহির্ভূত এবং অনিয়মের সাথে আমাকে যুক্ত হতে বাধ্য করতে চাইলে আমি এর প্রতিবাদ করি এবং অফিসিয়াল নিয়মের বাহিরে কিছুই করতে পারবো না জানালে ম্যানেজার কুশিন চন্দ্র রায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
তার ইচ্ছামত হইনি বিধায় অফিসে আমার সঙ্গে অসদাচার করা করেন এবং কলম দিয়ে আঘাত করার উদ্বুদ্ধ হওয়াসহ কর্মজজ্ঞে হরহামেশাই গালমন্দ, অসদাচার ও কটুকথায় লাঞ্ছিত করছে। অন্যদিকে পূর্বের ফিল্ডকর্মীর বকেয়া টাকাসহ আমার বিতরনী গ্রাহকের টাকা না উঠলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার বেতন বাবদ ও নতুন গ্রাহকদের নিকট উত্তোলনকৃত টাকা দিয়ে পরিশোধ করেন নেন ম্যানেজার। আবার কৌশলে নতুন সদস্যদের আমার পিছে লেলিয়ে দেন টাকা নিয়ে তালবাহানা করার জন্য। আমি তো সে টাকা নিয়েছি ম্যানেজারের কথামত।
এক দিকে নতুন সদস্যের চাপ অন্য দিকে আমার নিকট গ্রাহকের টাকা পরিশোধের চাপ। এমন করে আমার নিকট গত আড়াই বছরে ম্যানেজার কুশিন চন্দ্র রায় প্রায় সাড়ে নয়লক্ষ হাতিয়ে নিয়েছে। যার সমস্ত ডুকমেন্ট আমার নিকট আছে। অথচ গ্রাহকের নিকট বকেয়া টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ম্যানেজারের ভুমিকা অপরিহার্য। সেখানে তিনি আমার মত একজন ফিল্ডকর্মীকে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করছেন। এ ব্যাপারে আমি জেলা ও বিভাগীয় স্যারদের নিকট সমস্ত ডকুমেন্টস উল্লেখ্য করে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম কিন্তূ কি রহশ্যজনক কারনে তারা এ অনিয়ম ও দূর্নীতি পরায়ন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কার্যকারী পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করেননি সে বিষয়ে আমি বোধগম্য নই। আমার কর্মসংস্থানের উর্ধ্বতন কর্মকতা কর্তৃক সুবিচার না পাওয়ায় আমি আইনের আশ্রয় গ্রহন করেছি। আশা রাখি আইনের নিকট সুবিচার পাবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মীরগঞ্জ -১ এর শার্প ম্যানেজার কুশিন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ফিল্ডকর্মী কল্পনা রানী রায় বিভিন্ন গ্রাহক ও চেক দিয়ে সুদের টাকা নিয়েছে। ব্রাঞ্চ ইনচার্জ ও ব্যবস্থপক হিসাবে আমি জানার পর বিষয়টি এরিয়া ম্যানেজারকে অবগত করি। এরিয়া ম্যানেজার তাকে চিঠি পাঠিয়ে অন্যত্র বদলি করতে চাইলে পরিকল্পিত ভাবে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। যা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে শার্পের রংপুর বিভাগীয় এরিয়া ম্যানেজার মোকছেদুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে ওই ফিল্ডকর্মী চেক দিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট নগদ ও সুদে টাকা নিয়েছেন এবং ম্যানেজার উর্ধ্বতন কর্মকতাকে জানালে টনক নড়ে ফিল্ডকর্মীর। আমরা এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে সরজমিন তদন্ত করছি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে উভয়ের বিরুদ্ধে কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.