মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে ইরান এবং মার্কিন-ইসরাইল জোটের মধ্যে সরাসরি ও ব্যাপক মাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি।
শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে আক্রমণ চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ, তাব্রিজ এবং কেরমানশাহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত। তাদের দাবি, এই হামলায় প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর পাশাপাশি অসামরিক এলাকাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
[caption id="attachment_9254" align="aligncenter" width="300"]
সংগ্রহীত ছবি[/caption]
হামলার পরপরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরাইল অধিকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। একে তারা শত্রুপক্ষ ও অপরাধী চক্রের আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে। পাল্টা হামলাকে ‘অপরারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ হিসাবে বর্ণনা করছে তেহরান।
ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করে দেয়া হবে: ট্রাম্পইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করে দেয়া হবে: ট্রাম্প ইরানের এই পাল্টা আক্রমণ শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
আরব আমিরাতে রাজধানী আবুধাবিতে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের 'প্যাট্রিয়ট' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত এবং আমিরাত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
[caption id="attachment_9253" align="aligncenter" width="300"]
ইরান-আমেরিকা সংগ্রহীত ছবি [/caption]
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনের এই সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি জাতি সর্বদা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করেছে। তবে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করে ইরান এই আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দেবে। ইতিহাস সাক্ষী, ইরানিরা কখনো মাথানত করেনি এবং এবারও আক্রমণকারীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে।
বর্তমানে পুরো অঞ্চলটি এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.