যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে এবং এতে মার্কিনদেরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানে হামলার লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা। ইরান যদি তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, তাহলে আবার হামলা চালানো হবে। বারবার সতর্কবার্তার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার প্রশাসন এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও আমি হালকাভাবে এই কথা বলছি না—ইরানের সরকার মানুষকে হত্যা করতে চায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সাহসী মার্কিন বীরদের জীবন হারাতে পারে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু আমরা এ অভিযান এখনকার জন্য করছি না, ভবিষ্যতের জন্য করছি। এটি একটি মহৎ মিশন।’
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘এপিক ফিউরি’ (EPIC FURY)।
গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা দখলের পর এটি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলা। প্রথম হামলাটি ছিল জুন মাসে। তখন ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়।
গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলা। প্রথম হামলাটি ছিল জুন মাসে, যখন
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছে, এবারের হামলা প্রথম দফার মতো একদিনে শেষ হবে না; বরং কয়েক দিন ধরে পরিচালিত হবে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েন, তেহরান পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর ও বিধ্বংসী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তার বার্তায় ট্রাম্প ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। অন্যথায় ‘নিশ্চিত মৃত্যু’।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের প্রতিটি সুযোগ নাকচ করেছে। ইরান দশকের পর দশক ধরে প্রত্যাখান করে আসছে। আমরা আর এটি মেনে নিতে পারছি না।
Email:-todaysomoysangbad@gmail.com
Copyright © 2026 টুডে সময় সংবাদ. All rights reserved.