শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে বর্তমান কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তাই কারিকুলাম নিয়ে কাজ করার জন্য বলেছি। মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কারিকুলাম পরিবর্তন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। মানিকগঞ্জ সিঙ্গাইরের একটি কেন্দ্রে খাতা দেখাদেখি করেছে দু-একজন। পরে সতর্ক করা হয়েছে। একটি কেন্দ্রে বাজারে হওয়ায় জটলা বেশি এবং মব হওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু অভিভাবকরা সহনশীল, তাই ঝুঁকি ছিল না।
এহছানুল হক মিলন বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং হয়নি। এবং এই ধরনের কোনো আলোচনাও নেই। আমি সর্বপ্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো সাংবাদিকদের, আপনারা সবাই সহযোগিতা করেছেন। এই পরীক্ষা সুস্থ স্বাভাবিক হোক। এজন্য আপনারা পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি এগুলো আপনারা বারবার টেলিভিশনে নিউজপেপারে প্রচারিত করেছেন বিধায়। সারা জাতি জেনেছে যে পরীক্ষা এবার সুন্দর হবে এবং নকলমুক্ত হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।
তিনি বলেন, ‘আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের এই জেনজিরা পরীক্ষা দিচ্ছে এটি সত্যিই অভাবনীয় এবং তাদের যে আনন্দ উৎফুল্লতা আমি যাওয়ার পরে এতে সত্যিই সমাদৃত হয়েছি। আপনারা আগামী পরীক্ষাগুলোকে এভাবেই সহযোগিতা করবেন। পরের পরীক্ষাগুলো আমি যতটা সম্ভব মনিটরিং করব এবং আমার টিম মনিটরিং করবে এবং আপনারাও করবেন। এর মাঝে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আপনার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানাবেন।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ আর্কাইভ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরে কোনো অভিযোগ এলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হবে।
এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জের পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে একটি কেন্দ্রে এক ছাত্র আরেকজন ছাত্রের খাতা দেখা সংক্রান্ত সামান্য অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল এমন পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র। তিনি বলেন, সেখানে এক ছাত্র আরেকজন ছাত্রের খাতা দেখছিল। শিক্ষক সামান্য অমনোযোগী ছিলেন। তিনি সাবধান করে দিয়ে এসেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটকেও বলেছেন এ বিষয়ে সাবধান করতে।
পরিদর্শন করা অন্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ছিল সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চবিদ্যালয়, আমিনবাজার এলাকার একটি কেন্দ্র এবং মিরপুরের পাইকপাড়া মডেল একাডেমি স্কুল। এসব কেন্দ্রের পরিবেশকে ‘সন্তোষজনক’ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমার ঘুরে আসা পাঁচ কেন্দ্র ছাড়াও সারা দেশে খবর নিয়েছি। সব বোর্ডের চেয়ারম্যানেরা বলেছেন পরীক্ষা সুন্দরভাবে হচ্ছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আদৌ কোনো আশঙ্কা নেই এবং হয়নিও।
উল্লেখ্য, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজার ২৩৫ জন পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৩ লাখের বেশি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি। মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা।



















