টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Friday , 25 July 2025 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভদ্রলোকের মুখোশের আড়ালে ভয়ংকর এএসআই আমির খসরু

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
July 25, 2025 6:55 pm

স্বৈরাচার দোসরদের লম্বা তালিকায় ডিবি হারুন, পুলিশের বিপ্লব কুমার সরকারদের নাম সবাই জানে। কিন্তু তাদের অপকর্মের নিত্যসঙ্গী, যোগ্য উত্তরসূরীদের কয়জনকে আমরা চিনি ? তবে অনেকের মধ্যে এএসআই মোঃ আমির খসরুর তালুকদারের পাপের ফিরিস্তি এবার সামনে এসেছে। স্বয়ং তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা: মর্জিনা নিজেই প্রকাশ করেছেন তার স্বামীর ভয়ংকর সব অপকর্মের তথ্য। বিয়ের আশ্বাসে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মেয়ের সাথে প্রতারণা, অবৈধ সম্পর্ক, পিস্তল ঠেকিয়ে বা জোরপূর্বক ধর্ষণ, মেবাইলে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল, জোরপূর্বক গর্ভপাত, কৌশলে নগদ টাকা, স্বর্নালঙ্কার লুট, মাদক সেবন ও বিক্রি, পুলিশের পোশাকে নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে টাকা লুট, গুম-খুন সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে এই এএসআই আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে। যিনি ইতোমধ্যে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

অভিযুক্ত মোঃ আমির খসরু তালুকদার পেশায় পুলিশের এএসআই। তিনি বর্তমানে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় কর্মরত আছেন (বিপি নং- ৮০০০০৯৫৯৮৮)।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদার সুনামগঞ্জ জেলার, দোয়ারা বাজার উপজেলার, সুঁড়িগাও গ্রামের মোঃ মনাজির গনি তালুকদারের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা- ২৬৩/৭ নিউ টাউন, সাইনবোর্ড, ডেমরা-ঢাকা। চাকরির সুবাদে আমির খসরু বর্তমান শাহজাহানপুর থানায় কর্মরত আছেন।

অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী নারী মোছা: মর্জিনা। ভুক্তভোগী মর্জিনা তার বাবা মোঃ বতু মিয়া ও মা মোছাঃ সালমার সাথে রাজধানীর ডেমরা, ৬৪ নং ওয়ার্ড, নূরানী মসজিদ রোডের ১২৮ নং বাসায় থাকছেন। তাছাড়া জন্মসূত্রে তারা পরিবার নিয়ে রাজধানীতেই থাকেন।

তথ্যমতে মোঃ আমির খসরু তালুকদার ২০০০ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। প্রশাসনে নানাবিধ অপকর্মে তার বিশেষ খ্যাতি বা কু-খ্যাতি রয়েছে। হয়তো সেকারণেই পুলিশ থেকে র‍্যাব, ডিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় বদলি হয়েছেন তিনি। আর সেই সুবাদেই আমির খসরুর পাপের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে।

ভুক্তভোগী মর্জিনা তার সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন লোমহর্ষক অত্যাচারের বর্ণনা দেন। মর্জিনা বলেন, ‘আমির খসরুর সাথে আমার ২০১৯ সালে মোবাইলে যোগাযোগ হয়। সে আমাকে প্রায়ই ফোন করতো। তার মনভোলানো ছলাকলায় তার সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সেটা কোনো প্রেমের সম্পর্ক না। একদিন আমির খসরু আমাকে দেখা করতে বলে একটা বাসায় নিয়ে যায়। ওইদিন সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে আমি বাধা দিই এবং বাসা থেকে চলে আসতে চাই। কিন্তু আমির খসরু আমাকে মারধর করে এবং তার সাথে থাকা পিস্তল আমার মাথায় ঠেকিয়ে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। কিন্তু আমি ভয়ে চিৎকার করতে পারিনি। ওইদিন সে আমার সাথে যা যা করে, তা ভিডিও করে রাখে- যা আমি ঘটনার পর বুঝতে পারি। পরবর্তীতে সে আমাকে ওই ভিডিও দেখিয়ে নিয়মিত ব্লাকমেইল করতে থাকে। প্রায়ই সে আমাকে ধর্ষণ করতো। আমি তার হাত-পায়ে ধরে ভিডিও ডিলিট করতে বললেও সে শোনেনি, বরং আমার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতনের সাথে তখন সে আমার কাছ থেকে টাকা চাওয়া শুরু করে। তখন আমি এক মহাসমুদ্রে পড়ি।’

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় মর্জিনা বর্ণনা করেন তার পরের কাহিনী। এই ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার স্বামী সন্তান থাকার পরও আমির খসরু আমার টাকা ও সম্পত্তির লোভে আমাকে বিয়ে করতে বলে। আমি রাজি না হলে চলতো ব্যাপক মারধর। এমন যায়গায় লাথি মারতো, যা সবাইকে দেখানো সম্ভব না। সে আমাকে ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে আমার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করে। আমি নিরুপায় হয়ে আমার সুখের সংসার ছাড়তে বাধ্য হই এবং ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিই। ওই বছরই অক্টোবর মাসে আমির খসরু আমাকে বিয়ে করে। আমি তখনও জানতাম সে সিঙ্গেল, আমিই তার প্রথম স্ত্রী। অথচ বিয়ের পর ধীরে ধীরে জানতে পারি, তার আগেও স্ত্রী ও সন্তান আছে। বিয়ের আগে থেকেই আমির খসরু আমার থেকে নানা অজুহাতে টাকা নিতো। বিয়ের পর টাকা ছাড়া সে কিছুই বুঝতো না। তার পোশাক, পুলিশ, ডিবির পোশাক, ঈদে আত্মীয়দের জন্য পোশাকও সে আমার টাকায় কিনতো। তার হাতের আংটি, গলার চেইন সবকিছু আমি কিনে দিই। শুনলে অবাক হবেন- সে সামান্য একজন এএসআই। অথচ সে বিমানে ছাড়া যাতায়াত করতো না। তার বিমানের টিকিটও আমি কিনে দিতাম। তবুও সে ভালো হয়নি। দু’দিন পরপরই দেখতাম সে অন্য মেয়েদের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত। নিষেধ করলেই শুরু হতো পৈশাচিক নির্যাতন।’

অবৈধ সম্পর্ক, টাকা, স্বর্ণ ইত্যাদি নিয়েও থেমে থাকেনি আমির খসরু। বিয়ের পর মর্জিনা গর্ভবতী হলে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ-বিষয়ে মর্জিনা বলেন, ‘২০২২ সালে আমি গর্ভবতী হই। এটা শুনে সে আমার স্বামী হিসেবে খুশি হওয়ার কথা। উল্টো সে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। সে আমাকে ডেমরার হলি এইড হসপিটালে নিয়ে ডাঃ শারমিন আক্তার লিজাকে দিয়ে জোরপূর্বক আমার গর্ভপাত করে। ডাক্তার তাকে নিষেধ করলেও সে শোনেনি। ডাক্তারের রিপোর্টও আমার কাছে আছে। এই ঘটনার পর ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর আমির খসরু আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একটি হলফনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তী পড়ে জানতে পারি সেখানে লেখা- আমার মৃত্যুর পর আমার সকল সম্পত্তির মালিক হবে আমির খসরু।’

ভুক্তভোগী ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, ‘আমাকে বিয়ের পর থেকেই তার সকল চাহিদা, খরচ, বাজার, বাসা ভাড়া সবকিছু আমি দিতাম। কিছুদিন পর যখন জানতে পারি তার আগের স্ত্রী এবং সন্তান আছে। তখন আমাদের ঝগড়া হতো। কারণ সে এই ঘটনা আমাকে বলেনি এবং আমাকে বিয়ের বিষয়ে তার প্রথম স্ত্রীকেও জানায়নি। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই সে আমাকে থাপ্পড়, কিল, ঘুষি, লাথির বাইরেও লাঠি, স্টাম্প, পিস্তলের গোড়ালি দিয়ে মারতো। তার নির্যাতনে আমি কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তারের রিপোর্টও আছে।’

আমির খসরুর আমলনামার ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাষ্যমতে- আমির খসরু পুলিশ, ডিবি, র‍্যাবে থাকাকালীন নানা অপকর্ম করতো। বিশেষ করে সে ডিবিতে যেয়ে একেবারে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় ছিলো আমির খসরুর কাছে ডালভাত।

ভুক্তভোগী মর্জিনার ভাষ্যমতে- আমির খসরু ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিল। ডিবির বিভিন্ন গোপন অপারেশন, গুমের সাথে আমির খসরু সরাসরি জড়িত ছিলো। এমনকি সে একাধিক পাসপোর্টও করে রেখেছে।

মর্জিনা বলেন, ‘আমির খসরু আমাকে প্রায়ই বলতো- আমি বেনজির স্যারের কাছের লোক। হারুন স্যার তার গোপন অপারশনে আমাকে সাথে রাখে। আমার ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার কোনো আইডিয়া নেই। আমি নতুন একটা পাসপোর্ট করবো, টাকা দাও। কারণ জানতে চাইলে আমির খসরু বলে- আমার যে পাপের লিস্টি, সরকার পরিবর্তন হলে নিশ্চিত কট খাবো। এই পাসপোর্ট দিয়েই পালাবো। আমি ভাবতাম মজা করছে সে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি সে কতো ভয়ংকর। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এরা সরাসরি ছাত্রদের উপর গুলি করেছে। অনেক মানুষকে ডিবি অফিসে নিয়ে অত্যাচার করতো, গুম করেছে অনেককেই। এমনকি ৫ আগস্টের দিন ছাত্ররা ওদেরকে ঘেরাও করলে আমি গর্ভবতী অবস্থায় সেখানে যায় ওকে বাঁচাতে। ছাত্ররা আমার অবস্থা দেখে ওকে আমার সাথে আসতে দেয়। অতচ তার এই অপকর্মে নিশ্চিত ফাঁসি হওয়া উচিত।’

মূলত মর্জিনার সাথে আমির খসরুর পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু পুরোনো পাপের সূত্র ধরেই। কারণ আমির খসরু বরাবরই পরকীয়ার ওস্তাদ। যেটা ধরে পড়ে মর্জিনার কাছে। আমির খসরুকে অসংখ্য নামি-দামি উপহারের মধ্যে সাধ্য অনুযায়ী মর্জিনা একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে দেয়। ঘটনার এক পর্যায়ে যখন আমির খসরু মর্জিনাকে মেরে অজ্ঞান করে পালিয়ে যায়, তখন মর্জিনা সুস্থ হয়ে সেই ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট চেক করে। আর সেখানেই মেলে অন্তত অর্ধশত মেয়ে ও পরকীয়া প্রেমিকাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার। অবশ্য নামগুলো সংরক্ষণ করার কৌশল দেখলে যে কারোর চোখ কপালে উঠবে। অথচ তার প্রথম স্ত্রী চড়ে দামি গাড়িতে, সন্তানদের ভর্তি করেছেন নামি-দামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। তার গ্রামের বাড়িতে বা সুনামগঞ্জে (সদর) মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনেছেন জমি। তবে তথ্য অনুযায়ী চতুর আমির খসরু কৌশলে জমি রেজিস্ট্রি করেছে প্রথম স্ত্রীর নামে।

মূলত অসংখ্য মেয়ের সাথে প্রতারণা, পিস্তল ঠেকিয়ে ধর্ষণ, মেবাইলে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল, জোরপূর্বক গর্ভপাত, মাদক সেবন ও বিক্রি, গুম-খুন সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আসে এই এএসআই আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে আমির খসরুর মাদক সেবনের ভিডিওতে রীতিমতো তোলপাড় পুলিশ অঙ্গন। কারণ গোপন সূত্র জানায়, বিভিন্ন হোটেল, মদের বার, বাসায় মাদক সেবন ও বিক্রি যেনো তার কাছে ফ্যাশন।

তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ পেয়ে ভাড়া বাড়ির মালিকপক্ষ ও অন্যান্য স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে আবাসিক বাসায় অনুসন্ধান করে আমাদের “ক্রাইম সার্চ টিম”। যেখানে উঠে আসে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদক কারবারির ভয়াবহ তথ্য। কি নেই সেখানে ? প্রায় ৬ প্রকারের মাদক, বিক্রির জন্য রাখা আলাদা প্যাকেট, সেবনের জন্য রাখা কৌটা, পাত্র, নল সহ নানাবিধ উপকরণ। এককথায় এ যেনো মাদকের স্বর্গরাজ্য।

আমির খসরুকে কাছ থেকে দেখা একাধিক ভাড়াটিয়া বলেম, একজন পুলিশ সদস্য হয়ে এমন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার নজির বাংলাদেশে হয়তো খুব বেশি চোখে পড়বে না। কিন্তু সরকারি বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপিয়ে মাদক সেবন ও কারবার চালু রেখেছেন এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদার। এখন দেখার বিষয়- বাংলাদেশ পুলিশ থেকে তার বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়।

কথা হয় মর্জিনার করুণ গল্পের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে। মর্জিনার স্বামী এএসআই আমির খসরুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ তথ্য দেন তারা। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা বলেন, ‘এই আমির খসরু তালুকদার একজন জীবন্ত শয়তান। ও আমাদের পরিচয় জানলে সবাইকে মেরে ফেলবে। কারণ আমরা মর্জিনার পক্ষে পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দিতে যায়। তখন পুলিশের সামনেই আমির খসরু আমাদেরকে গুম করার হুমকি দিয়েছে। এমনকি মর্জিনা সহ আমাদের খুন করার জন্য ওইদিন ২ জন কিলার ভাড়া করেছিলো। আপনারা ওখানকার সিসি ক্যামেরা চেক করলে প্রমাণ পাবেন। আমরা চাই এই আজরাইল, বদমাশের একটা কঠিন শাস্তি হোক।’

মর্জিনা সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত পুলিশের সব দপ্তরে গিয়েছি। আমার স্বামীর কলিগ, থানার ওসি, জোনের এসি, ডিসি কোথাও বাদ রাখিনি। কোনো পুলিশ আমাকে একটু সাপোর্ট করেইনি, বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। কেউবা আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছে, কেউবা বিচারের নামে আমার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস নিয়ে আর কোনো সাহায্য করেনি। আমি নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকের কাছে এসেছি। কারণ আমার স্বামী আমির খসরু তালুকদার আমাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। যেদিন পুলিশের কাছে বিচারের আশায় স্বাক্ষী সহ আমরা হাজির হই, ওইদিন সে ২ জন কিলার ভাড়া করে আনে। পুলিশের সামনের আমির খসরু ও ২ জন কিলার আমাদেরকে হুমকি দেয়। অথচ পুলিশ চুপ করে ছিলো। আমি জানতে পারি- আমির খসরু আমার সাবেক স্বামীর ছবি ব্যবহার করে অন্য মেয়ের উলঙ্গ ছবি adjust করে সব যায়গায় আমার ছবি বলে সবাইকে বোকা বানাচ্ছে। কারণ WhatsApp চ্যাটিংয়ের যে অশ্লীল ছবি আমার বলে চালিয়ে দিচ্ছে- সেখানে তারিখ দেখেন, এবং চেহারাও ঢেকে রেখেছে। মূলত সে আমাকে সবার কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ছবি ইডিট করে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করছে।

সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব মর্জিনা বলেন, বিয়ের আগ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সে আমার থেকে সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খেয়েছে। আমার কাপড়ের ব্যবসাটাও গিলে খেয়েছে। এখন আমার একটা ছোট্ট জমি আছে, সেটা বিক্রি করে আরও ২০ লক্ষ টাকা দিতে বলে। সবমিলিয়ে আমি ক্লান্ত, আমি যেকোনো সময় মারা যেতে পারি।
তাই আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশের মাননীয় আইজিপি, মাননীয় আইন উপদেষ্টা সহ সকলের নিকট সাহায্য কামনা করছি। আমাকে আপনারা এই বিপদ থেকে বাঁচান। এই ভয়ংকর অপরাধী আমির খসরুর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই আমি।’

এমন নারকীয় অপরাধ ও ঘটনা সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে Human Rights Support Society (HRSS) এর মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মর্জিনার কথা যদি সত্য হয়ে থাকে- তাহলে এটা অত্যন্ত ভয়ানক বিষয়। এটা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পুরোপুরি এদেশের আইন পরিপন্থী। বিশেষ করে একজন পুলিশ সদস্য এমন লাগামহীন কর্মকান্ড কোনোভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া পিস্তল ঠেকিয়ে শারীরিক নির্যাতন, গর্ভের সন্তান নষ্ট করা নিঃসন্দেহে গর্হিত অপরাধ। সেই সাথে একজন আইনের রক্ষক হয়ে মাদক সেবন একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। প্রয়োজনে তার ডপ টেস্ট করাতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। সেই সাথে তার একাধিক পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি মারাত্মক অপরাধ। এটি সুস্পষ্ট অপরাধীর দিকেই ইঙ্গিত করে।”

মর্জিনাকে নির্যাতন, বিয়ে, টাকা-স্বর্ণ লুট সহ নানা বিষয়ে জানতে চাই আরেকজন অপরাধ বিশ্লেষকের কাছে। ঘটনা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে ওই অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, “আইন সকলের জন্যই সমান। মর্জিনার স্টেটমেন্ট অনুযায়ী এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদার স্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন করেছেন। বিয়ে পূর্ব ও পরবর্তী ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। একজন এএসআই কতো টাকা বেতন-সম্মানী পান ? তিনি কিভাবে বিমানে যাতায়াত করেন ? তার বিকাশ, নগদ সহ মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাব চেক করা জরুরি। সেইসাথে একাধিক পাসপোর্ট করার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাছাড়া আপনাদের কাছে থাকা ভিডিও থেকে এটা স্পষ্ট যে, আমির খসরু নিয়মিত মাদক সেবন করে। সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অতিসত্বর তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মর্জিনাকে নির্যাতন সহ সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই আমির খসরু তালুকদার বলেন, “আমি এমন কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নই। মর্জিনা আমার নামে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব অপবাদ দিচ্ছে। আমাকে দোষী বলা হলে আমি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

মার্কিন ঘাঁটিগুলো এবার ‘নরক’ দেখবে: ইরান

মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির

ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যৌক্তিক’ অবস্থানে আসা উচিত: রাশিয়া

তিতাসে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও উদ্বোধন

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

বাড্ডা বড় বেরাইদ এক ভাঙ্গরি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সাংবাদিক আজহার আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পথেই দেশকে নিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

উত্তরায় আগুনের ঘটনায় স্বামী স্ত্রীরসহ দুই বছরের শিশুর মৃত্যু,নানির বাসায় যাওয়ায় বেঁচে আছেন কাজী রাফসান।

ঝিনাইদহে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ