টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Friday , 2 October 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে ফুটপাতের চেহারা বদলে গেছে

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
October 2, 2026 4:20 pm

রাজধানীর মিরপুর এলাকার ফুটপাতের চিত্র। ১০ নম্বর গোলচত্বর ঘিরে নেই চিরচেনা যানজট, ফুটপাতজুড়ে নেই হকারের দৌরাত্ম্য। সেখানে নির্বিঘ্নে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারী। এমনকি যত্রতত্র পার্ক করা গাড়ির সংখ্যাও কমে গেছে। গত বুধবার হকার উচ্ছেদ ঘিরে সৃষ্ট সংঘর্ষের পর আবারও অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর পর থেকেই মিরপুর এলাকার ফুটপাত-সড়ক থেকে হকার কমতে শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফুটপাতে হকার ছিল না বললেই চলে।

সরেজমিন মিরপুরের ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর, ২ নম্বর গোলচত্বর, ১২ নম্বর ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাত একেবারেই ফাঁকা। আগে যেখানে সকাল থেকে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসতেন, সেখানে কোনো হকার নেই। দুয়েকটি টং দোকানের খাঁচা থাকলেও কোনো জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখার দৃশ্য দেখা যায়নি। বরং কিছু হকারকে আশপাশ দিয়ে ঘুরে ঘুরে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার সুবিধা পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে বসতে দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

মিরপুর হোপ স্কুলের পাশে ফুটপাতে ব্যবসা করা এক পোশাক বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে সমকালকে বলেন, আমরা এখন কী করে খাব। সরকার আমাদের বসার জায়গা করে দিক। তা না হলে বসতে দিক।

স্থানীয় একটি পোশাকের শোরুমের কর্মী রুমন ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে মিরপুর এলাকায় হকার খুব বেড়ে গিয়েছিল। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল, সামনের রাস্তা দিয়েও চলাচল করা যেত না। খাঁচা বসিয়ে সেখানেও দোকান সাজিয়ে বসত।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, উচ্ছেদ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথা বলে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের পেটে লাথি মারা হয়, তাহলে সেই উচ্ছেদ আমরা মেনে নেব না। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে হকার আইন প্রণয়ন, নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার ব্যবস্থা করা, হকার উচ্ছেদ বন্ধ, হকারদের তালিকা প্রণয়ন ও হকারদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানানো হয়।

আহত সাংবাদিকের বাসায় প্রশাসক
মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতকে দেখতে গতকাল তাঁর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিফাতের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি, তা চলমান থাকবে। তবে উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও সুপরামর্শ থাকলে তা নেওয়া হবে। ফুটপাত ফের দখলের বিষয়ে প্রশাসক জানান, জনগণের পথ চলাচলের ফুটপাত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং কেউ যদি আবার বসে তাহলে আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও হকার বসতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাজধানীর কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হকার বসলে উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের মালপত্র ক্রোক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থান ছাড়া কোথাও কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধলপুরে সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনভোগান্তি-সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূল সড়কসহ কোনো ফুটপাতে অবৈধভাবে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চার মামলায় আসামি এক হাজার, গ্রেপ্তার ২৫
ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি, কাফরুল থানায় একটি। চার মামলায় আসামি করা হয়েছে এক হাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। তিন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এর মধ্যে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই তীরে চলছে মাটি লুটের মচ্ছব এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।। কুমিল্লা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদীর দুই তীরের মাটি লুটের মচ্ছব চলছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ি পর্যন্ত নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে পাওয়ার টিলারে ভরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয় অসাধু চক্র। এসব মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। মাটি কেটে নেওয়ায় তীরের ফসলি জমি, পাশের শহর রক্ষা বাঁধ ও সেতু ঝুঁকিতে পড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, আদর্শ সদর উপজেলায় নদীর উত্তর তীরে পাঁচ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ তীরে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় মাটি লুট চলছে। পাওয়ার টিলার দিয়ে মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও বসতবাড়িতে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়। নদীর উৎসমুখ কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার ও গোলাবাড়ি থেকে শুরু করে পালপাড়া পীরবাড়ির সামনে পর্যন্ত উভয় তীরে মাটি কাটার প্রক্রিয়া চলছে প্রকাশ্যে। এতে গোমতীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাঁধসংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ উঠে গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দক্ষিণ তীরে দুর্গাপুর, ভাটপাড়া, পালপাড়া পীরবাড়ি, কাপ্তানবাজার, চানপুর মাস্টারবাড়ি, শালধর এবং সামারচর এলাকায় অন্তত ২০টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি তুলতে দেখা গেছে। এসব ট্রাক্টর চলাচলের জন্য সড়কের অংশ কেটে নদীর বাঁধের ভেতর দিয়ে চলার পথ তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে নদীর উত্তর পাড়ে ছত্রখিল এলাকায় থাকা পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই চলছে মাটি কাটার কাজ। বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়া ও নদীতীরের গাছের নিচ থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। চানপুর বেইলি সেতু এবং কাপ্তান বাজার পশ্চিম অংশের মাটিও কাটতে দেখা গেছে। নদীর দুই তীরে মোট সাতটি ঘাট থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।কয়েকজন ট্রাক্টরচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি ট্রাক্টর মাটি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আরেকজন স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা এই মাটি ট্রাক্টরে করে ইটভাটা ও আশপাশের বিভিন্ন নির্মাণস্থলে সরবরাহ করি। রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু প্রশাসনিক লোককে ম্যানেজ করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।’ গোমতী নদীর চর দখল করে কোটি কোটি টাকার মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আড়াইওড়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ধারী এই ব্যক্তি বিগত ১৭ বছর পার করার পর এবার স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার যোগসাজশে গোমতীর মাটি কাটছেন। অভিযোগ স্বীকার করে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পাড় সংলগ্ন আমার একটি পুকুর আছে। আমি সেখান থেকে মাটি কাটছি। মাটি কাটার সঙ্গে আমি একা জড়িত না। স্থানীয় নেতারা ও প্রশাসনের কিছু লোক আমার সঙ্গে আছেন।’ জানতে চাইলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রেজা হাসান বলেন, ‘জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমি পাউবোকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। গোমতীর তীর থেকে মাটি কাটা বা বালু তোলার কোনো অনুমতি জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি।’ রেজা হাসান আরও বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন বরাবরই এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তা নিয়ে যেখানে মাটি কাটা হয়, সেখানে অভিযান চালানো হবে।

নাসিরনগরে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন

সচিবালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

তামিলনাড়ুতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থালাপতি বিজয়ের দল

কদমডাঙ্গা ইসলামিয়্যাহ্ সালাফিয়্যাহ্ মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের শুভ উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পুলিশ সুপার

সাভারের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোঃ আব্দুল আজিজ অসুস্থ, দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা জনগণে দৈনন্দিন জরুরি সেবাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছি

ছয় মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ ৬ পাটকল

সংবিধান সংস্কার পরিষদ,বিরোধী দলের নোটিশের ওপর আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে সংসদে বিতর্ক

বিমান দুর্ঘটনা

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আরতী রানীর মৃত্যু