পাকিস্তানের সংসদ সম্প্রতি একটি বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনী পাস করেছে, যার মাধ্যমে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট দেশটির সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী পাস করেছে। সমালোচকরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুই-তৃতীয়াংশেরও ( ২৩৪ ভোট) বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে আইনটি অনুমোদন করেছে, যেখানে মাত্র চারজন আইনপ্রণেতা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এর আগে সোমবার, বিরোধীদের বয়কটের পরও উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হয় বিলটি। সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য দ্রুত এটি পাস হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। এই ধরনের সংশোধনীগুলোর জন্য সাধারণত সপ্তাহ বা মাস বিবেচনার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরে সংশোধনীটি আইনে পরিণত হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা।
পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই ২৭তম সংশোধনীর প্রধান উপকারভোগী। সেনাপ্রধান আসিম মুনির এখন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের নতুন পদে উন্নীত হবেন, যার ফলে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীও তার অধীনে থাকবে। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, তিনি তার পদমর্যাদা বজায় রাখবেন এবং আজীবনের জন্য আইনি অনাক্রম্যতা পাবেন।
সামরিক শক্তি, বিচার বিভাগ
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশোধনীটিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামঞ্জস্য এবং জাতীয় ঐক্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান।
শরিফ বলেন, ‘যদি আমরা আজ এটি সংবিধানের অংশ করেছি, তা কেবল ফিল্ড মার্শালকে কেন্দ্র করে নয়। এটি বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।’ তিনি স্পিকারকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘এতে কি ভুল হয়েছে? দেশগুলো তাদের বীরদের সম্মান করে… আমরা জানি কিভাবে আমাদের বীরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তা অর্জন করতে হয়।’
সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন সামরিক বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন জোটের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে। সংশোধনীর অধীনে, সাংবিধানিক মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি নতুন ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে স্থানান্তরিত হবে।



















