সাভারে চাঞ্চল্যকর স্বামী কর্তৃক স্ত্রী’কে শ্বাসরোধে হত্যাকান্ডের আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মানিক’কে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে, র্যাব।
বাংলাদেশ র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে জোরাল ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত দীর্ঘদিনের পলাতক দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র্যাব ইতোমধ্যে জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব-৪ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ , র্যাব-৫ এবং র্যাব-১২ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৬ মে ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুরে চাঞ্চল্যকর স্বামী কর্তৃক স্ত্রী রুমানা আক্তার(১৮)’কে শ্বাসরোধে হত্যাকান্ডের আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মানিক(২১)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহার ও ঘটনার বিবরণে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভিকটিম রুমানা আক্তার (১৮) এর সাথে গত ৩০ জুলাই ২০২৪ তারিখে আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মানিক (২১) এর মোবাইলে পরিচয় সূত্রে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর ভিকটিম তার স্বামীর বাড়ী নওগাঁতে বসবাস করতে থাকে। বিবাহের বেশ কিছু দিন পর আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মানিক ভিকটিমকে কারণে অকারণে শারীরিক ও মানসিক অত্যচার করতে থাকে। উক্ত অত্যাচারের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বার শালিশ মিমাংশা হয়। গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ গ্রেফতারকৃত আসামী তার স্ত্রী ভিকটিম রুমানা আক্তারকে নিয়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় আসামীর বড় ভাই এর ভাড়াটিয়া বাসায় বেড়াতে নিয়ে আসে। এমতাবস্থায় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ সকালে ভিকটিমের পিতা মোবাইল ফোনে সংবাদ পান যে, তার মেয়ে রুমানা আক্তার (১৮)’কে তার মেয়ের জামাই ভাইয়ের বাসায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
এ সংক্রান্তে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হলে র্যাব-৪ এর আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে র্যাব-৪, র্যাব-৫ এবং র্যাব-১২ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানাধীন দুপচাঁচিয়া থানা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মানিক(২১)’কে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে ভিকটিমকে হত্যা করে।গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



















