টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Wednesday , 27 May 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার ঈদ জামাত ও ফাঁকা নগরীর নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

প্রতিবেদক
এস এম দেলোয়ার হোসেন
May 27, 2026 6:09 pm

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ঈদ জামাত ও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে পড়বে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল ১১:০০ ঘটিকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ডিএমপির গৃহিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামীকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় ঢাকা মহানগরীতেও পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকাস্থ মুসলিম দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য জাতীয় ঈদগাহে মোট ৫টি গেট রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি পুরুষ এবং ১টি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসি’র ডগ স্কোয়াড (K-9) দ্বারা সুইপিং করা হবে। পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহের সকল প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশি ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পিকেটিং ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্টে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা থাকবে: মৎস্য ভবন ক্রসিং , প্রেস ক্লাবের সামনে, হাইকোর্ট ক্রসিং, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ড্রোন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি’র সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, পৃথক প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। জাতীয় ঈদগাহের অভ্যন্তরে পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুমে “Lost and Found Center” স্থাপন করা হবে। হারানো ও প্রাপ্তির তথ্য সেখানে সংরক্ষণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য ঈদগাহে সংশ্লিষ্ট ক্রাইম বিভাগ আয়োজক কমিটির সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৬:০০ ঘটিকা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

আগত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা এবং নিরাপত্তাজনিত তল্লাশিতে সহযোগিতা করা। গাড়িযোগে আগত মুসল্লিদের রোড ব্লক এলাকায় নেমে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ এবং নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করা। জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক ট্রাফিক ডাইভারশন ও পার্কিং নির্দেশনা অনুসরণ করা। শুধুমাত্র জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসা। কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সঙ্গে না নিয়ে আসা। জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়া। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, ঈদের ছুটিতে নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল, মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে । আবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীদের ডিউটি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

গণমাধ্যম সবসময় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনারা ডিএমপির নিরাপত্তা নির্দেশনা জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করবেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপির মিডিয়া সেলের ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন এবং অন্যান্য উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর দাখিলের নির্দেশ

রাজধানীর হাজারীবাগে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২৫

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, শুনানি ১৭ নভেম্বর

কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গর্তে থমকে গতি বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনার ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে মিসাইল হামলা

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ তৌফিক হোসেনকে ছাড়পত্র দেওয়া হল

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কক্ষে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে ইরানের ব্যাপক বিধ্বংসী হামলা

কুমিল্লায় কৃষিজমি থেকে মাটি কাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান