রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১২নং মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের পরিবার পরিকল্পনা(ক্লিনিক শাখার )অফিসের স্বাস্থ্য সহকারী সন্তোষ কুমার নাথ এলাকাতে ডাক্তার পরিচিতি নাম প্রচার করে নিরীহ মানুষদের প্রতারণা করছেন এবং তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপি নেতাকর্মীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন সন্তোষ কুমার নাথ। এমনকি তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন তদবির করতেন। আওয়ামী লীগের দোসর সন্তোষ কুমার নাথ ও তার স্ত্রী কনিকা রানী অধিকারী অবৈধভাবে সরকারি ওষধ বিক্রি করে বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে এলাকার সাধারণ রোগীরা ওই অফিস থেকে ঠিকমতো ওষুধ পাচ্ছে না রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এবং তার স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে মিঠাপুকুর সহ বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন অবৈধভাবে। মিঠু আপু কোন এলাকাবাসীদের অভিযোগ হঠাৎ করে কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলেন বিষয়টি ভাবতে অবাক লাগে সন্তোষ কুমার কি আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছেন ? ওই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, পরিবার পরিকল্পনার অফিসে সাধারণ একজন কর্মচারী হয়ে কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলেন। অবশ্যই তিনি অবৈধভাবে অবলম্বন করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে এবং সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়ে গেছেন। এমনকি ওই এলাকাতে ডাক্তার নামধারী পরিচয়ে সন্তোষ কুমার মানুষের কাছে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে অনুরোধ করবো । যেন সন্তোষ কুমারের মত লোক আর যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করতে পারে।
স্বামী-স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা, গোপালপুর, উপজেলা-মিঠাপুকুর, জেলা-রংপুর।
রংপুর তোলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১২নং মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ক্লিনিক শাখার) পরিবার পরিকল্পনা (ক্লিনিক শাখার ) অফিসের স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে বর্তমানে কর্মরত আছেন।তার টিন নং-১৪৮৬৫৫৫৫১৪৩১, কর সার্কেল-১৩, কর ‘অঞ্চল-রংপুর।এছাড়া তিনি তার স্ত্রীর টি আই এন এ ঠিকানা উল্লেখ্য করেছেন,‘বর্ষন ফুটি রংপুর সদর, রংপুর।
সন্তোষ কুমার মূলত টাঙ্গাইল জেলার স্থায়ী অধিবাসী। তিনি দীর্ঘদিন থেকে ১২ নং মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের পরিবার পরিকল্পনা (ক্লিনিক শাখায়) চাকুরী করার সুবাদে সেখানে নিজেকে ডাক্তার হিসাবে পরিচিতি লাভ করে সকাল সন্ধা রোগী চিকিৎসার নামে রোগীদের হয়রানি করেছেন । বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের স্যাম্পল নিয়ে থাকেন । সেই সব কোম্পানীর স্যাম্পলের ঔষধ উচ্চেমূল্যে বিক্রি করেন রোগীদের কাছে। যার সম্পূর্ণ বে আইনী।এ ছাড়াও তিনি অর্থের দাপট দিকে গোপালপুর বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন । যা সরকারি আইন বিধির লংঘন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যাবে।
তার সম্পদের পরিমান,
১২ নং মিলনপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫-২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন কয়েক কোটি টাকা দিয়ে। ১২ নং মিলনপুর, মনি গৌতম ফনি একই সঙ্গে এক এককর জমি ক্রয় করেছেন ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে। এ ছাড়া গোপালপুর বাজারে তাপস, তপন, বিধান, সহ আরো কয়েক জন মানুষের জমি ক্রয় করেছেন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে। এছাড়াও গোপালপুর বাজারে মেসার্স আমিনুল ট্রের্ডাস চৌধুরী গোপালপুর, মিঠাপুকুর রংপুর দোকানের জায়গাটি প্রথমে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে সন্তোষ কুমার ক্রয় করেছিলেন।
পরবর্তীতে ওই জায়গাটি সন্তোষ কুমার মেসার্স আমিনুল ট্রেডার্সের কাছে আবার ৪০ লক্ষ টাকা বিক্রি করে ।সেই টাকা দিয়ে রংপুর সদরে ১০ ডেসিমেল একটি জায়গা ক্রয় করেন সন্তোষ কুমার। কিন্তু তিনি তার সরকারি আর্থিক বিবরণীতে মাত্র ৬ লক্ষ ১১ হাজার ১১২ টাকা প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও তিনি লিখিছেন তার ৯০ ডিসিমেল কৃষি জমি ক্রয় করেছন ১২ নং মিলনপুর মৌজায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু তিনি তার আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শন করেছেন ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা । এছাড়াও তিনি সরকারি আইন তোয়াকা না করে অবৈধভাবে ১২ নং মিলনপুর মৌজায় কোটি কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। তাতে সরকারে কোন অনুমতি গ্রহন করেন নি। এ ছাড়াও তিনি সরকারি চাকুরী করা কালীন অবৈধভাবে চৌধুরী গোপালপুর বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করেন নিয়মিত করে যাচ্ছেন যা সরকারি বিধি লংঘন। তিনি মিলনপুর কো অপারেটিভ সময়বায় সমিতির দুটিতে কয়েক কোটি টাকা জমা রেখেছেন। তার স্ত্রীর কনিকা রানী অধিকারীর নামে কয়েক কোটি টাকা গোপালপুর বাজারে দুইটি সমিতিতে এফ ডি আর করেছেন। এবং তার স্ত্রীর নামে রংপুর শহরে মূলাটল এলাকায় একটি এক তলা বাড়ি নিমার্ণ করেছেন। এছাড়াও তিনি তার জাতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্য স্থান/স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখেছেন বিষয়টি খুবই রহস্যজনক । এ ব্যাপারে সন্তোষ কুমারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি । পরের দিন আবার ফোন দেয়া হলে ফোনটি তার স্ত্রী কনিকা রানীকে ধরিয়ে দেন পরে তিনি বলেন অভিযোগ সত্য না মিথ্যা এত সম্পদের মালিক আমরা না । পরে একপর্যায়ে বিভিন্ন পত্রিকার আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দিয়ে তদবির করতে শুরু করেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল উত্তম কুমার নাথ নামের এক ব্যক্তি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবরে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দাখিল করেন । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এইসব তথ্য পেয়েছি এবং সরেজমিনে এগিয়ে এলাকাবাসীর একাধিক লোকের সাথে কথা বলে এইসব তথ্য পাওয়া যায় সন্তোষ কুমারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনার অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, আমরা মুখে মুখে শুনতে পেয়েছি সন্তোষ কুমারের বিভিন্ন ধরনের অপকর্সমের সম্বন্ধে। আমাদের কাছে কেউ যদি লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টার বরাবরে অভিযোগটি দিয়ে থাকলে তা আমার জানা নেই এমনকি আমরা পাইনি পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তার বিষয়ে তদন্ত করলে ১২ নং মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আবেদনকারীর অভিযোগ। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে আমার আকুল আবেদন তদন্তপূর্বক সন্তোষ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান করছি ।



















