রাজধানীর মিরপুর ১০ নাম্বার গোল চক্কর ফলপট্টি এলাকায় ৯৫ নং চৌরঙ্গী মার্কেটের একটি ভবনে তৃতীয় তলায় হেয়ার ফ্যাশন বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ( টাক মাথায় চুল লাগানো ও বিভিন্ন ট্রিটমেন্টের অজুহাত দেখিয়ে প্রতারণা করছেন মানুষের সাথে ) এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নুর ইসলাম (লিখন)। তিনি মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং সরকারের টেক্স ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে ফ্ল্যাট ,গাড়ি ও জমির মালিক হয়ে গেছেন। এছাড়াও আ. লীগ সরকারের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন।
মোহাম্মদ তানজিম বাবা আবু তাহের , বাসা পশ্চিম আগারগাঁও বিএনপি বাজার থানা শেরেবাংলা নগর,ঢাকা । তার লিখিত অভিযোগে নুর ইসলাম লিখনের বিরুদ্ধে এসব তথ্যগুলো জানা গেছে। তানজিম চলতি বছরের গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নুর ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেই লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৫ নং চৌরঙ্গী মার্কেট মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর ফল পট্টি এলাকায় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হেয়ার ফ্যাশন বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর তিনি। তার তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অপর দুটি হচ্ছে বনানী কাকলি ও ফার্মগেট এলাকায় । নূর ইসলাম বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতেন। আকর্ষণীয় পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে এবং বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ স্টেশন, ট্রেন স্টেশনে এমনকি বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে লাগিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতেন । আকর্ষণীয় পোস্টার দিকে টাক মাথার মানুষরা তার প্রতিষ্ঠানে আসলেই তিনি সুকৌশলে আকর্ষণীয় কথাবার্তা বলে কাস্টমারকে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। ওইসব কাস্টমারকে প্রথমেই বলেন আপনার দশ হাজার টাকা হলেই হবে।
তারপরে একের পর এক সমস্যা দেখাইয়ে কাস্টমারের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা সুখ-উজলে হাতিয়ে নেন নূর ইসলাম। এভাবেই মানুষের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। প্রথম তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। সে এখন তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। তিনি মানুষের সাথে প্রতারণা করে খান্ত হননি সরকারের টেক্স ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়া একের পর এক প্রতারণা ও দুর্নীতি করে আসছেন নুর ইসলাম। অবৈধ ভাবে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এভাবেই তিনটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে আজ তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি বর্তমানে ৫২৯ নং সেনপাড়া পর্বতা থানা কাফরুল ঢাকা ১২১৬, এই বাসায় স্বপরিবারে বসবাস করেন সে বাসাটি সরকারের ভ্যাট ফাঁকি ও মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ উপার্জন দিয়ে ক্রয় কৃত। তার পিতার নাম শাহাদাদ হোসেন শেখ, মাতার নাম লায়লা বেগম।
তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২৬১১ ০৩ ৮৮ ২৫ ৬৩ ৩, জন্মতারিখ ১৪ অক্টোবর ১৯ ৮০, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা হলো চৌয়ারীর টেক, ফায়দাবাদ উত্তর, থানা দক্ষিনখান, ঢাকা । তার টিআইএন নং ৪৩ ৮৮ ৩১ ৯৫ ২৩ ১২, কর সার্কেল মিরপুর। তার টিআইএন এর ঠিকানা বাসায় ১১ ৫৯ পূর্ব কাজীপাড়া মিরপুর ঢাকা ১২১৬। স্থায়ী ঠিকানা গ্রামঃ কেলনা, পোস্টঃ কাত্তি বাজার, গোপালগঞ্জ সদর। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাননি । এর কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি ও মামলার করার হুমকি দেয়। এতে করে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। এভাবে নুর ইসলাম দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরে পর বছর তার এই প্রতারণা ও দুর্নীতি মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন এবং সরকারের ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকায় অর্থ বনে গেছেন। এখনো সাধারণ মানুষকে তার কাছে হয়রানি শিকার হচ্ছেন। প্রতারণার মাধ্যমে ও ভ্যাট ফাকি দিয়ে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন নুর ইসলাম । এই সুবাদে তার প্রতিষ্ঠানে আসার আগত কাস্টমাররা প্রতিনিয়তই হয়রানি শিকার হচ্ছেন। নুর ইসলাম কাস্টমারদের আদর যত্ন করে কাছে ডেকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলে। তার কথা শুনে কাস্টমাররা বিশ্বাস করে টাকা-পয়সা জমা দেন। তার সিস্টেম হল প্রথমে ১০ হাজার টাকা পর্যায়ক্রম ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় । পরে উন্নত মানের কাজ না হওয়ার কারণে ভুক্তভোগী কাস্টমাররা পুনরায় তার কাছে আসলে সে বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তখনই তার সাথে বাগদন্ড শুরু হয়। তারপরে মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় নেতাদের ভয় ভীতি দেখাতে শুরু করে । এভাবেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অঙ্গের অর্থ হাতে নিচ্ছেন নুর ইসলাম। হঠাৎ করে তিনি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হয়েছেন।
তার প্রতারণা , সরকারের ট্যাক্স ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের বিবরণী তুলে ধরা হলো।
১। বাসা নং ৫২৯ সেনপাড়া পর্বতা থানা কাফরুল, ঢাকা ১২১৬ । এই হোল্ডিং নাম্বারে তিনি একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। বর্তমানে বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই ফ্ল্যাটে তিনি স্বপরিবারে বসবাস করেন।
২। বাসার নং ১১ ৫৯ পূর্ব কাজিপাড়া মিরপুর, ঢাকা ১২১৬। এ বাড়িটি তার টিআইএন তার নামে উল্লেখ করা আছে।
৩। চৌয়ারীর টেক ফায়দাবাদ উত্তর, থানা দক্ষিনখান, ঢাকা। এখানেও তার বাড়ি রয়েছে। ৪। এছাড়াও তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে তার নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি গত সরকারের আমলে সরকারের টাকা ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে এখন তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন । তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বিষয়টি তদন্ত করলে উক্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে । তানজিম লিখিত অভিযোগে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে নুর ইসলামের অপকর্ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পাবে। তাই
উপরোক্ত বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ আমার আহ্বান।



















